


গাইবান্ধার ফুলছড়িতে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ না থাকায় শিশু-কিশোরদের শৈশব কাটছে চার দেয়ালে এবং আসক্ত হয়ে পড়েছে ইলেকট্রনিক ডিভাসের উপর। সেইসাথে খেলাধুলা বঞ্চিত কিছু-কিছু স্থানীয় কিশোর-তরুণরা জড়িয়ে পড়ছেন মাদক, সন্ত্রাসসহ আরও কিছু অপকর্মে। শিশু-কিশোর ও যুবসমাজের মানসিক বিকাশ ও মাদকমুক্ত উপজেলা গড়তে মিনি স্টেডিয়ামের দাবী স্থানীয়দের।
নদীর কূলে ঘেষে উঠা উপজেলা গাইবান্ধার ফুলছড়ি। অবহেলিত ফুলছড়ি উপজেলায় অনুন্নত জীবন-যাপন, নূন্যতম বাজেট-বরাদ্দ থেকে শুরু করে প্রায় সকল সরকারি কার্যক্রমে পিছিয়ে পড়া নদী বেষ্টিত এক জনপদ। দারিদ্র্যতার সাথে লড়াই করে এই জনপদের শিশু-কিশোর ও যুবকরা বেড়ে উঠে আপন মহিমায়। অবহেলিত এই জনপদের উন্নয়নে খুব একটা নজর পড়েনি সরকারের। জনসংখ্যা বিবেচনায় দুর্বল অর্থনীতি, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ও খেলার মাঠ একেবারেই নগন্য। উপজেলার হাতে গোনা কিছু প্রাতিষ্ঠানিক খেলার মাঠ থাকলেও অফিস ছুটি হবার সাথেই সাথেই তালাবদ্ধ হয়ে যায় খেলার মাঠে প্রবেশের প্রধান ফটক। অর্ধশত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই খেলার মাঠ। আবার স্থানীয় কিছু কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ছোট-ছোট খেলার মাঠ থাকলেও সরকারি বিভিন্ন ভবন নির্মাণ এবং নানান অব্যবস্থাপনার ফলে সংকুচিত হয়ে খেলাধুলার করার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী যেখানে প্রতি পাঁচ হাজার মানুষের বিপরীতে একটি মাঠ থাকার কথা, যার আয়তন হবে এক একর। সেখানে ফুলছড়িতে বসবাসকারী প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় বড় মাঠ খুবই নগন্য।
স্থানীয় সচেতনমহল আক্ষেপ করে বলেন, অবহেলিত ফুলছড়ি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম বাস্তবায়নের জন্য অনেকে আশ্বাস দিলেও তা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে শিশুদের মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। আশে-পাশে যেসব বিদ্যালয়ের মাঠ রয়েছে সেগুলোর আকার একেবারেই ছোট। মাদকমুক্ত এবং শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশে ফুলছড়িতে উন্মুক্ত একটি মিনি স্টেডিয়াম বাস্তবায়নের দাবী সকলের।
উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ফুলছড়িতে ছোট-বড় মাঠ রয়েছে প্রায় ১০০টির অধিক। কিন্তু আকারে ছোট হওয়ার কারণে এসব মাঠে খেলাধুলা করার পরিবেশ নেই। খেলার মাঠের এই অপর্যাপ্ততার কারণে ঘরবন্দি হয়ে পড়ছে শিশু-কিশোররা। সেই সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে শিশু-কিশোরদের দুরন্ত শৈশবের উদ্যম।
অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম রানা বলেন, মাঠের অভাবে আমরা সেভাবে খেলাধুলা করতে পারি না। আগে দুই একটি খেলার মাঠ বড় ছিল কিন্তু এখন আর নেই। খেলার মাঠ না থাকায় মোবাইল ব্যবহার করেই আমাদের সময় কাটে। খেলাধুলার সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের এলাকায় একটি মিনি স্টেডিয়াম অতীব জরুরী।
এ বিষয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন গাইবান্ধা জেলা শাখার মুখপাত্র জাহিদ হাসান জীবন বলেন, ফুলছড়ি উপজেলা পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই। গাইবান্ধার অন্য উপজেলা গুলোতে মিনি স্টেডিয়াম থাকলেও ফুলছড়ি বঞ্চিত। শিশু কিশোরদের মাদক থেকে দূরে রাখতে ফুলছড়িতে একটি মিনি স্টেডিয়াম বাস্তবায়ন করা জোর দাবী জানাচ্ছি।
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মিনি স্টেডিয়াম বাস্তবায়নের জন্য আমার পক্ষ থেকে সবধরণের চেষ্টা থাকবে। এজন্য আমি মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করব। যাতে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা করার জন্য একটু উপযুক্ত মাঠ ফুলছড়িতে হয়।