


গত কয়েক দিন ধরে চলমান কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার তিস্তা অববাহিকার জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড শীতের কারণে কৃষক ও কৃষিশ্রমিকরা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না, ফলে ব্যাহত হচ্ছে কৃষি কাজ। এতে ফসলের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। কালীগঞ্জ, আদিতমারী, হাতিবান্ধা, পাটগ্রাম ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র শীতের সঙ্গে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাস বইছে। পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ হয়ে উঠেছে তিস্তা ও ধরলা নদী তীরবর্তী দুর্গম চরাঞ্চলগুলোতে। শীতের এই দাপটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকরা, যাদের অনেকেরই শীতবস্ত্র কেনার সামর্থ্য নেই। ঠান্ডা থেকে বাঁচতে অনেককে খড়কুটো ও শুকনো পাতা জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। ভাটিবাড়ী গ্রামের কৃষক নরেন চন্দ্র বর্মণ (৬৬) বলেন, কনকনে ঠান্ডার কারণে অধিকাংশ কৃষিশ্রমিক মাঠে কাজ করতে আগ্রহী হচ্ছেন না, অথচ এই সময়ে ফসলের পরিচর্যা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, ভুট্টা ও আলুখেতে এখনই যত্ন নেওয়া দরকার। কিন্তু ঠান্ডা আর কুয়াশার কারণে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে নিজেকেই মাঠে কাজ করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, খুব কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু নিরুপায় হয়ে ঠান্ডার সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে। সংগ্রামটা একার হলেও ফসলটা সবার জন্য। আমরা ফসল না ফলালে দেশের মানুষ কী খাবে? একইভাবে কাশিরাম গ্রামের কৃষক লোকমান হোসেন (৬৮) জানান, প্রচণ্ড শীতে শ্রমিকরা কাজে আসছেন না।
গায়ে জ্যাকেট ও মাথায় মাফলার জড়িয়ে তিনিও নিজেই ভুট্টাখেতে কাজ করছেন। তিনি বলেন, হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় শরীর কাতর হয়ে ওঠে, তবু কাজ করতে হচ্ছে। আমরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করি। আমরা কাজ না করলে দেশের মানুষের খাবার জোগাবে কে? কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়ন শৌলমারী গ্রামের কৃষক রবিউল (৪০) বলেন, গত মঙ্গলবার থেকে মাঠে কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, মাঠে গেলেই এমন ঠান্ডা লাগে যে কোনো কাজ না করেই বাড়ি ফিরে আসতে হয়। কিছুক্ষণ বাইরে থাকলেই হাত-পা অবশ হয়ে আসে। তিনি জানান, মাঠে কাজ করার সময় খড় জ্বালিয়ে আগুন পোহানোর চেষ্টা করছেন কৃষক ও শ্রমিকরা।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত মঙ্গলবার থেকে রংপুর অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। তিনি বলেন, সূর্যের দেখা না মেলায় ঠান্ডা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। চারপাশ ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে, সঙ্গে রয়েছে হিমেল বাতাস। এই শৈত্যপ্রবাহ পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে শ্রমিকরা মাঠে কাজ করতে না পারলে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমান শীত পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।