1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
ফুলবাড়ীতে নাব্যতা সংকটে ধরলা নদী, হারাচ্ছে প্রাণ ও প্রবাহ | দৈনিক সকালের বাণী
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন

ফুলবাড়ীতে নাব্যতা সংকটে ধরলা নদী, হারাচ্ছে প্রাণ ও প্রবাহ

অনিল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) 
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৯৯ জন দেখেছেন
দেশের উত্তরের সীমান্তঘেষা জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এক সময়ের খরস্রোতা ধরলা নদী এখন নাব্যতা হারিয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুপথযাত্রী হয়ে পড়ছে। যে নদী এক সময় দুকূল ছাপিয়ে দুর্দান্ত স্রোতে ছুটে চলত, আজ সেই নদীর বুকজুড়ে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। কোথাও কোথাও সরু ধারায় জীর্ণ-শীর্ণভাবে প্রবাহিত হচ্ছে নদীর পানি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হিমালয় পর্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জেলা জলপাইগুড়ি হয়ে নদীটি প্রথমে বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলায় প্রবেশ করে। পরে আবার ভারতের কিছু অংশ অতিক্রম করে ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের সীমান্তঘেষা গোরকমন্ডল এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
প্রায় ৩৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে চর সৃষ্টি করতে করতে শেষ পর্যন্ত নদীটি ব্রহ্মপুত্র নদে গিয়ে মিলিত হয়েছে। ধরলা পাড়ের একাধিক স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক যুগ আগেও ধরলা নদী ছিল প্রবল স্রোতস্বিনী। পানির তোড়ে আশপাশের মানুষ আতঙ্কে থাকতেন। নদীতে প্রচুর দেশি প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত, ফলে নদীকেন্দ্রিক গড়ে উঠেছিল মৎস্যজীবীদের বসতি।
কিন্তু বর্তমানে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় মাছের পরিমাণও কমে গেছে। জীবিকার তাগিদে অনেক জেলে পেশা পরিবর্তন করে অন্য কাজে যুক্ত হচ্ছেন।
নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে অল্প বৃষ্টিতেই নদীর পানি উপচে বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। আবার পানি নেমে গেলে শুরু হয় তীব্র ভাঙন, যা পুরো বর্ষা মৌসুমজুড়েই চলতে থাকে। অতিরিক্ত ভাঙনের ফলে নদীর বুকজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় আড়াই শতাধিক চর।
বর্ষা মৌসুম ছাড়া বছরের বাকি সময়ে এসব চরে ভুট্টা, ধান, বাদাম, মিষ্টি কুমড়া, তামাক ও কলাসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করছেন কৃষকরা। তবে নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় সেচের জন্য তাদের যন্ত্রের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে নদীটি দ্রুত খননের মাধ্যমে আগের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দা জমসেদ আলী ও রফিকুল ইসলাম জানান, ধরলা নদীর পানি ও স্রোত আগের মতো আর নেই। এখন ধরলা নদী মরা খালে পরিণত হয়েছে। অনেক মানুষ এখনে হেতেই পারাপার করছেন। আগে যে পরিমাণ মাছ ছিল এখন তো তার এক কানিও নেই। আগে স্থানীয়রা মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, নদীতে এখন মাছ না থাকার এখন তারা অন্য পেশা বেঁচে নেন। এই দুই স্থানীয় নদীটি খননের দাবী জানিয়েছেন।
ধরলা পাড়ের বাসিন্দা ও প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, নদী আমাদের জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই নদীটি দ্রুত খননের মাধ্যমে ধরলা নদীকে পুনরুদ্ধার করা খুবই জরুরি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )