


সম্প্রতি ফিনল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বিশ্বের অন্যতম অদ্ভুত এবং মজার একটি প্রতিযোগিতা। প্রতি বছরের মতো এবারও দেশটির সোনকাজ্যরভি শহরে বসেছিল ‘বিশ্ব স্ত্রী বহন প্রতিযোগিতা’-এর ২৯তম আসর। রীতি অনুযায়ী প্রতি বছর জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে আয়োজন করা হয়ে থাকে এই প্রতিযোগিতাটি। ৩ ও ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত এবারের আসরটিতে অংশ নিয়েছিলেন ১২টি দেশের প্রায় ৬০টি দম্পতি। প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী, স্বামীদের তাদের স্ত্রীদের পিঠে বা কাঁধে নিয়ে ২৫৩.৫ মিটার দীর্ঘ একটি ট্র্যাক দৌড়ে পার হতে হয়। তবে পথটি মোটেও মসৃণ নয়, পুরো ট্র্যাকে ছিল কৃত্রিম বালির ঢিবি, কাঠের গুঁড়ি এবং বুক সমান গভীর পানির কৃত্রিম পুকুরের মতো কঠিন সব বাধা।
এছাড়াও আরও একটি অন্যতম নিয়ম হলো- স্ত্রীর ওজন কমপক্ষে ৪৯ কেজি হতে হবে। ওজন এর চেয়ে কম হলে ওই নারীর পিঠে বাড়তি ওজনের ব্যাগ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতায় জেতার জন্য অধিকাংশ দম্পতি ‘এস্তোনিয়ান স্টাইল’ বেছে নেন। এই পদ্ধতিতে স্ত্রী তার মাথা নিচের দিকে ঝুলিয়ে পা দুটি স্বামীর কাঁধের ওপর দিয়ে পেঁচিয়ে শক্ত করে ধরে রাখেন। দেখতে অদ্ভুত লাগলেও দ্রুত দৌড়ানোর জন্য এটিই নাকি সবচেয়ে সুবিধাজনক।এই প্রতিযোগিতার পুরস্কারটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং মজার। যে দম্পতি প্রথম হয়ে ট্রফি জেতেন, পুরস্কার হিসেবে স্ত্রীর ওজনের সমান ওজনের বিয়ার উপহার দেওয়া হয়! ফলে স্ত্রী যত ভারী হন, পুরস্কারের পরিমাণও তত বাড়ে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের প্রতিযোগিতায় সবাইকে চমকে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ৬১ বছর বয়সী ফিনিশ নাগরিক তাইস্তো মিত্তিনেন। এটি তার ক্যারিয়ারের ৯ম বিশ্বখেতাব এবং এই জয়ের মাধ্যমে তিনি এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজের রেকর্ডটি ধরে রেখেছেন। প্রথা অনুযায়ী, বিশ্বজয়ী মিত্তিনেন ট্রফির পাশাপাশি পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন তার স্ত্রীর ওজনের সমান ওজনের বিয়ার।
অন্যদিকে এবারের আসরে আরও অনেক মজার ও আবেগপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে, চিরাচরিত নিয়ম ভেঙে এক নারী তার ১৩৫ কেজি ওজনের পুরুষ সঙ্গীকে পিঠে নিয়ে ট্র্যাকে নেমেছিলেন। অন্য এক দম্পতিকে দেখা গেছে হুইলচেয়ারে থাকা সঙ্গীকে নিয়েই পুরো বাধা অতিক্রম করতে, যা দেখে অনেক দর্শক আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন। এছাড়াও এক নবদম্পতি বিয়ের মাত্র তিন দিন পরেই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তাদের মতে, হানিমুন উদযাপনের জন্য এর চেয়ে রোমাঞ্চকর ও মজার জায়গা আর হতেই পারে না। উল্লেখ্য, ফিনল্যান্ডে উনিশ শতকের এক চোরের দল কর্তৃক নারী অপহরণের লোককাহিনি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৯৬ সাল থেকে প্রতি বছর এই আজব বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করা হচ্ছে। এ আয়োজন দেখতে প্রতি বছর ফিনল্যান্ডের সোনকাজ্যরভি শহরে হাজার হাজার পর্যটক ভিড় করেন।
সূত্র: বিবিসি, সিএনএন।