1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
আলুর ক্ষতি পুষিয়ে দিচ্ছে আগাম ভুট্টা, স্বস্তিতে কৃষক | দৈনিক সকালের বাণী
শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন

আলুর ক্ষতি পুষিয়ে দিচ্ছে আগাম ভুট্টা, স্বস্তিতে কৃষক

বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ৩২ জন দেখেছেন

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে আলু চাষে ক্ষতির মুখে পড়লেও আগাম ভুট্টা চাষে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম এবং বাজারে ভালো দাম থাকায় ভুট্টা চাষে কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

 সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে ভুট্টা উত্তোলন শুরু হয়েছে। কোথাও কৃষকরা জমি থেকে ভুট্টা সংগ্রহ করছেন, কোথাও আবার বাড়ির আঙিনায় স্তূপ করে রাখছেন। অনেক জমিতে এখনও আধাপাকা ভুট্টা দুলছে বাতাসে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ৩৩ শতাংশ (ছোট দাগে এক বিঘা) জমিতে আলু চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ থেকে ৩৮ হাজার টাকা। কিন্তু উৎপাদিত আলু বিক্রি করে পাওয়া গেছে ৩০ থেকে ৩৩ হাজার টাকা। এতে প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকদের ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতি হয়েছে।

অন্যদিকে একই পরিমাণ জমিতে আগাম ভুট্টা চাষে খরচ হয়েছে ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা। বর্তমানে উত্তোলন শুরু হওয়া ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪১ হাজার টাকায়। ফলে প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকরা ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করছেন।

উপজেলার খানপুর গ্রামের কৃষক হাসান আলী বলেন, আলুতে তেমন লাভ হয়নি, কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে ভুট্টা চাষে ভালো লাভ হওয়ায় সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারছি।

উপজেলার আরেক কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, এবার ভুট্টার ফলন ভালো হয়েছে এবং বাজারে দামও সন্তোষজনক। তাই আগাম ভুট্টা চাষ করে লাভবান হয়েছি। আগামীতে ভুট্টা চাষ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে আগাম ভুট্টা প্রতি মণ ৮৭০ থেকে ৮৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, যা তাদের জন্য লাভজনক।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে বোচাগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে আলু এবং ৫ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ভুট্টা প্রদর্শনী ও প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পোল্ট্রি ও খাদ্য শিল্পে চাহিদা থাকায় ভুট্টার বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে এবং গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নয়ন কুমার সাহা বলেন, চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে আলুর উৎপাদন খরচ পড়েছে প্রায় ৩৩ থেকে ৩৫ হাজার টাকা, যেখানে বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৩৩ হাজার টাকায়। ফলে প্রতি বিঘায় গড়ে ১ থেকে ২ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে ভুট্টা চাষে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম এবং বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফসলের বৈচিত্র্য আনার মাধ্যমে কৃষকরা ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে পারেন। আগাম ভুট্টা চাষের সফলতা এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )