এজাহারে ফাতেমা বেগম অভিযোগ করেন, কয়েক দিন ধরে আসামিরা তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দিলে হাসপাতালে চাকরি করতে দেওয়া হবে না বলে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শনিবার সকালের দিকে হাসপাতাল কোয়ার্টারে থাকা অবস্থায় আসামিরা তার বাসার সামনে গিয়ে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে চাঁদার টাকা নিয়ে বাইরে আসতে বলেন। তিনি চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে ধাক্কাধাক্কি করা হয়। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গেলে তার নাতি সামিউল ইসলাম স্বপনকে মারধর করা হয়। পরে তার মেয়ে মমতা খাতুন এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আশিকুল আরেফিন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারী ফাতেমা বেগম তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছিলেন না। তিনি হাসপাতালের একটি পরিত্যক্ত ভবনে বসবাস করছিলেন। তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তুলে ডিস ফারুক, জিহাদ সরকার রানাসহ কয়েকজন ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে এ ঘটনায় ফাতেমা বেগম থানায় অভিযোগ দেন।
তিনি জানান, শনিবার দুপুরে জিহাদ সরকার রানা ও ডিস ফারুকসহ তিন ব্যক্তি তার কার্যালয়ে গিয়ে ওই অভিযোগ তুলে নিতে তাকে চাপ দেন। তিনি সেখান থেকে বের হয়ে যেতে চাইলে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
এদিকে, জিহাদ সরকার রানা গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানা বদরগঞ্জে থাকবে না।’ এর কিছুক্ষণ পরই স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার বলেন, চাঁদাবাজির মামলায় জিহাদ সরকার রানা নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় মোট ছয়টি মামলা আছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

























