1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
পাকিস্তানের হামলায় তিন মাসে ৩৭০ আফগান নিহত | দৈনিক সকালের বাণী
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন

পাকিস্তানের হামলায় তিন মাসে ৩৭০ আফগান নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
  • ১৭ জন দেখেছেন

২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে তালেবান বাহিনী ও পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর মধ্যে সীমান্ত সংঘাতে অন্তত ৩৭২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ৩৯৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। নিহতদের অর্ধেকেরও বেশি কাবুলের একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে চালানো বিমান হামলায় মারা গেছেন।

আফগানিস্তানে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা পর্যবেক্ষণকারী জাতিসংঘ সহায়তা মিশন ইউএনএএমএ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, তথ্যগুলো তিনটি পৃথক স্বাধীন সূত্র যাচাইয়ের ভিত্তিতে সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১ সালের পর থেকে বছরের প্রথম প্রান্তিকে ইউএনএএমএর নথিভুক্ত হতাহতের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন নারী, ৪৬ জন শিশু—যাদের মধ্যে ৩১ জন ছেলে ও ১৬ জন মেয়ে—এবং ৩১৩ জন পুরুষ রয়েছেন। ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত বেড়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ভাষায়, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে পরিস্থিতি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়।

ইসলামাবাদ অভিযোগ করে, কাবুলের তালেবান সরকার পাকিস্তান তালেবান বা টিটিপিসহ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে। তবে আফগান কর্মকর্তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেন, পাকিস্তানই বৈরী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে এবং আফগান সার্বভৌমত্বকে সম্মান করছে না। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণ হলো ১৬ মার্চ কাবুলের একটি মাদক চিকিৎসা হাসপাতালে চালানো হামলা, যেখানে কেবল পুরুষ রোগীদের ভর্তি করা হতো। ওই হামলায় অন্তত ২৬৯ জন নিহত এবং ১২২ জন আহত হন।

তবে ইউএনএএমএ বলেছে, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনেক মরদেহ ব্যাপক দগ্ধ হওয়ার কারণে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ইউএনএএমএ সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর প্রতি আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র কিংবা বেসামরিক এলাকায় গোলাবর্ষণ ও গ্রেনেড হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছে।

জবাবে পাকিস্তান লিখিত বিবৃতিতে দাবি করেছে, তাদের সব পদক্ষেপই কেবল সন্ত্রাসী ও সামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে। ইউএনএএমএ জানিয়েছে, বেসামরিক হতাহতের প্রধান কারণ ছিল বিমান হামলা, যা মোট হতাহতের ৬৪ শতাংশের জন্য দায়ী। বাকিগুলো হয়েছে সীমান্তপারের গোলাবর্ষণ এবং একটি টার্গেটেড কিলিং-এর ঘটনায়।
১৯ মার্চ নুরিস্তানে একটি এনজিওতে কর্মরত আফগান নারী ঈদুল ফিতরের সময় নিহত হন, যদিও তার আগের দিন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল উভয় পক্ষ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এনজিও কর্মীকে ডান পাশে গুলি করা হলে তিনি পানিতে পড়ে যান এবং তার তিন বছর বয়সী ছেলেসহ ডুবে মারা যান। এপ্রিলের শুরুতে চীনে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার পর পাকিস্তান ও আফগানিস্তান পরিস্থিতি আর না বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেয় বলে জানা গেছে। এরপর সহিংসতা কিছুটা কমলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। আফগান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ এপ্রিল কুনার প্রদেশের আসাদাবাদে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলাবর্ষণে সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৮৫ জন আহত হন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )