


ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। আর এর মাঝেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। সবার আগ্রহের তুঙ্গে রয়েছে এবারের আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতবেন কে? গেল ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেও ট্রফি হারার বেদনায় কিলিয়ান এমবাপ্পের মুখে হাসি ছিল না। তবে তার ৮ গোলের সেই মহাকাব্যিক পারফরম্যান্স তাকে এনে দিয়েছিল গোল্ডেন বুট। গোল হয়তো ট্রফির নিশ্চয়তা দেয় না। তবে একজন দুর্দান্ত স্ট্রাইকার তার দলকে নিয়ে যেতে পারেন সাফল্যের চূড়ায়।
বয়সের সমীকরণ এবং তারুণ্যের জয়গান:
বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, ৩০ বা তার বেশি বয়সী খেলোয়াড়দের গোল্ডেন বুট জেতার রেকর্ড বিরল। বিগত আসরগুলোতে গোল্ডেন বুট জয়ীদের গড় বয়স ২৪.৭ বছর। ১৯৯৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার ডেভন সুকার ৩০ বছর বয়সে ৬ গোল করে এই পুরস্কার জিতেছিলেন, যা ইতিহাসে একমাত্র ব্যতিক্রম।
বিশ্বকাপে দলের পারফরম্যান্স:
একজন স্ট্রাইকার যতই দক্ষ হোন না কেন, তাঁর দল টুর্নামেন্টের যত গভীরে (সেমিফাইনাল বা ফাইনাল) যাবে, তাঁর গোল করার সুযোগ তত বাড়বে। যেমন ২০১৮ সালে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো গ্রুপ পর্বে ৪ গোল করলেও পর্তুগাল শেষ ১৬ থেকে বিদায় নেওয়ায় তিনি পিছিয়ে পড়েন; অন্যদিকে হ্যারি কেনের ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে ওঠায় তিনি ৬ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুট জেতেন।
ক্লাব ফুটবলের ফর্ম:
ইতিহাসে মাত্র দুবার এমন হয়েছে যে, ঘরোয়া লিগে সেরা চারের বাইরে থাকা ক্লাবের কোনো খেলোয়াড় বিশ্বকাপের শীর্ষ গোলদাতা হয়েছেন। অর্থাৎ ক্লাব ফুটবলে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা খেলোয়াড়রাই বিশ্বকাপে আলো ছড়ান।
অ্যাসিস্টের গুরুত্ব:
গোলসংখ্যা সমান হলে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী যে খেলোয়াড়ের অ্যাসিস্ট বেশি, তিনিই গোল্ডেন বুট পাবেন। যেমন ২০১০ সালে থমাস মুলার, ডেভিড ভিয়া, ওয়েসলি স্নেইডার ও ডিয়েগো ফরলান- সবাই ৫টি করে গোল করলেও তিনটি অ্যাসিস্টের কারণে মুলার গোল্ডেন বুট জিতে নেন।
চোখ থাকবে যাদের ওপর
কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স): ২০২২ সালের এই গোল্ডেন বুট জয়ী ফুটবলার বাছাইপর্বে চারটি গোল করেছেন। তার দল ফ্রান্স এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার। ফরাসিরা এবারও টুর্নামেন্টের শেষভাগ পর্যন্ত যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই গোল্ডেন বুট জয়ের ক্ষেত্রে তার সম্ভাবনা যথেষ্ট বেশি।
হ্যারি কেন (ইংল্যান্ড): ২০১৮ সালের গোল্ডেন বুট বিজয়ী কেন এবার বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে এই মৌসুমে ৫৪টি গোল করেছেন। বয়স ৩২ হলেও তার ফর্ম তাকে অন্যতম শীর্ষ ফেভারিট করে তুলেছে।
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): ৩৮ বছর বয়সী মেসির ঝুঁলিতে ৮টি ব্যালন ডিঅরসহ সব ট্রফি থাকলেও একটি গোল্ডেন বুটের অভাব রয়েছে। নিজের শেষ বিশ্বকাপে সেই খরা কাটাতে চাইবেন তিনি।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল): ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা সৌদি আরবের ঘরোয়া লিগে দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটিয়ে বিশ্বকাপে আসছেন। পর্তুগাল দলে ব্রুনো ফার্নান্দেজের মতো অ্যাসিস্ট কিং থাকায় রোনালদো এবার গোল্ডেন বুটের বড় দাবিদার। লামিন ইয়ামাল (স্পেন): বিশ্বকাপের ফাইনালের ঠিক এক সপ্তাহ আগে ১৯ বছরে পা দিতে যাওয়া ইয়ামাল ইউরো ২০২৪-এর দুর্দান্ত ফর্ম বিশ্বকাপে ধরে রাখতে মরিয়া। আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে): ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে এবার প্রিমিয়ার লিগে ২৬ গোল এবং জাতীয় দলের হয়ে বাছাইপর্বের ৮ ম্যাচে ১৬ গোল করা এই গোলমেশিনের গোল্ডেন বুট জেতা অনেকটাই নির্ভর করছে নরওয়ে কতদূর যেতে পারে তার ওপর।
লাউতারো মার্তিনেস ও হুলিয়ান আলভারেস (আর্জেন্টিনা): কোপা আমেরিকা ২০২৪-এ ৫ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতা মার্তিনেস এবং আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে দারুণ মৌসুম কাটানো আলভারেস আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের বড় ভরসা।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (ব্রাজিল): রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে রূদ্ধশ্বাস এক মৌসুমে ২১টি গোল ও ১৪টি অ্যাসিস্ট করা ২৫ বছর বয়সী ভিনিসিয়ুস ব্রাজিলের মূল ট্রাম্পকার্ড। তবে ব্রাজিলের সাম্প্রতিক ফর্ম তার জন্য কতটা উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারে, সেটাই দেখার বিষয়।
এছাড়াও ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে ও বায়ার্নে ২২ গোল ও ৩০ অ্যাসিস্ট করা মাইকেল অলিসে, স্পেনের মিকেল ওইয়ারজাবাল, বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু এবং সুইডেনের ভিক্টর গিওকেরেস ও আলেকজান্ডার ইসাক টুর্নামেন্টে নিজেদের দিনে যেকোনো রক্ষণভাগ ভেঙে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে বড় চমক তৈরি করতে পারেন।