
পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এনি বলেছেন, “একটু ধৈর্য ধরুন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবেই। টেকনিক্যাল কমিটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন পাওয়ার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে এসে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজের উদ্বোধন করবেন।” শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রংপুরের কাউনিয়া রেলসেতু সংলগ্ন তিস্তা নদীর পাড়ে তিনি এসব কথা বলেন।
পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, একটি রাজনৈতিক দল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। নির্বাচনের আগে তারা কোথায় ছিল এবং তিস্তা ইস্যুতে কী ধরনের আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে, তা জনগণ জানে। এখন তারা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি উপস্থিত জনসাধারণকে এ বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ২২ সদস্যের টেকনিক্যাল কমিটিকে সঙ্গে নিয়ে আমরা তিন মন্ত্রী সারাদিন তিস্তা নদী এলাকা পরিদর্শন করেছি। আপনারা হতাশ হবেন না। প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তরিক ও আগ্রহী।”
এ সময় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু বলেন, “একসময় তিস্তা ছিল আমাদের মায়ের মতো। কিন্তু আজ নদীটি রাক্ষুসে রূপ ধারণ করেছে। শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি থাকে না, আবার বর্ষায় দুই তীর উপচে মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”
তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে আমরা তিস্তা বাঁচাও আন্দোলন করেছি। তখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি ওই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন যে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন। টেকনিক্যাল কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর একনেক সভায় প্রকল্প অনুমোদন করে বাস্তবায়ন কাজ শুরু করা হবে।”
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশেই আমরা তিন মন্ত্রী তিস্তা নদী পরিদর্শনে এসেছি। টেকনিক্যাল কমিটি আমাদের সঙ্গে রয়েছে। তাদের প্রতিবেদন হাতে পেলেই বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে প্রতিশ্রুতি দেন, তা রক্ষা করেন। নির্বাচনের আগে দেওয়া বিভিন্ন অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি তা প্রমাণ করেছেন।” এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু, রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান, রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম,কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সফিকুল আলম সফি, সহ-সভাপতি রাকিবুল হাসান পলাশ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিনুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
Related