১৯৮৮ সাল থেকে কটকগাছা এলাকায় সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে বিদ্যালয়টি। স্থানীয়দের অভিযোগ, জিগাডাংগা এলাকার বাসিন্দা আনছার ও তাঁর বাবা বেলাল হোসেন ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়টি অন্যত্র নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে আনছার বলেন, “যে স্থানে বিদ্যালয়টি স্থানান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে, তার চারপাশে ঘনবসতিপূর্ণ গ্রাম রয়েছে। সেখানে তুলনামূলকভাবে বেশি শিক্ষার্থী পাওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং পড়াশোনার জন্যও মানসম্মত পরিবেশ রয়েছে।”
এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধের কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনা। সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে অস্থায়ীভাবে পলিথিনের ছাউনির নিচে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। তীব্র রোদ ও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়েই ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এছাড়া বিদ্যালয়ে নিরাপদ পানির জন্য টিউবওয়েল এবং উপযোগী শৌচাগারেরও তীব্র সংকট রয়েছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলছেন, বিদ্যালয়টি জিগাডাংগায় সরিয়ে নেওয়া হলে দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াত চরমভাবে ব্যাহত হবে।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজু জানায়, “আমাদের বিদ্যালয়টি অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে চাচ্ছে, যা আমাদের বাড়ি থেকে অনেক দূরে। তাছাড়া জায়গাটি নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই তা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এতে আমাদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যেতে পারে”
চার সন্তানের অভিভাবক শাহানা বেগম বলেন, “কটকগাছায় বিদ্যালয়টি থাকায় শিশুরা সহজেই যাতায়াত করতে পারে। কিন্তু এটি অন্যত্র সরিয়ে নিলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমে যাবে। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় বিদ্যালয়টি এখানেই রাখার জোর দাবি জানাচ্ছি।”
দীর্ঘ নয় মাস ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান নিয়ে চলা এই জটিলতা নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রশাসনের মধ্যস্থতায় একটি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হলেও কোনো পক্ষই তা মেনে নেয়নি।
এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুমুল ইসলাম বলেন, “আমরা সবার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।”
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, “আমরা বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছি এবং একটি সমাধানও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো পক্ষই তা মানেনি। বিষয়টি সমাধানের জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।