


গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সরকারি চাকরি ও বিভিন্ন ভাতা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শেখ জাহিদ হাসান জিল্লুর (৩৫) বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নিজেকে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি ও ভাতা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আসছেন তিনি। শেখ জাহিদ হাসান জিল্লুর উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের মৃত মো. ফরজান আলী মাস্টারের ছেলে। তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শেখ জাহিদ হাসান জিল্লুর।
তিনি বলেন, “সম্প্রতি এলাকায় একটি বলাৎকারের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ করায় জড়িতরা তার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে বলে দাবি করেন তিনি।” সরেজমিনে জানা যায়, বিজিবিতে চাকরি করতেন শেখ জাহিদ হাসান জিল্লুর। ২০১৯ সালের দিকে সে চাকুরীটাও হারান তিনি নিজ অপকর্মের কারণে। এরপর থেকে এলাকাত থাকেন তিনি। সরকারি চাকুরী, ঘর, বয়স্ক ও বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দেয়ার কথা বলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন জিল্লুর। সরকারি চাকুরির নিয়োগপত্রও বানিয়ে দিয়েছেন অনেককে। বিষয়গুলো নিয়ে এলাকায় সালিশি বৈঠকও হয়েছে কয়েকবার।
তবুও থেমে নেই শেখ জাহিদ হাসান জিল্লুর। গ্রামের সহজ আর সরল মানুষগুলোকে ঠেকানোটা এখন তার ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। নিজেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দাবি করে এ কাজগুলো করেন তিনি বলে জানান ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর টাকা ফেরত চাইলে তাদের নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও আইনি সহায়তা চেয়েছেন তারা।
দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা ভেঁকিরমোড় গ্রামের বাসিন্দা ও তার প্রতারণা স্বীকার মো. আবদুল মান্নান মিয়া ওরফে মাজহারুল বলেন, “নৌবাহিনীতে চাকরি দেয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ১৭ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন জিল্লুর। পরে একটা নিয়োগপত্রও দিয়েছিলেন। শেষে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারি নিয়োগপত্রটি ভুয়া।” কথা হয় আরেক ভুক্তভোগী দক্ষিণ বেকাটারী গ্রামের মো. মফিজল হকের সাথে। তিনি বলেন, “আমার ছেলেকে সেনাবাহিনীতে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৬ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন জিল্লুর। পরে আমার হাতে একটি ভুয়া নিয়োগপত্র ধরিয়ে দেন।
পরে আমি তাকে আটক করি এবং টাকা ফেরত চাই। এ সময় তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি কিছুদিন সময় চেয়ে নেন। সে টাকা আজও দিচ্ছেন না। চাইলেই নানা টালবাহানা ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। আমি এখন নিরুপায়।” আরেক ভুক্তভোগী দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা বেডারভিটা গ্রামের মোছাঃ আজিরন বেওয়া জানান, “তাঁর নাতির নামে শিশু ভাতার কার্ড করে দেয়ার কথা বলে ৫ হাজার টাকা নেন।
সেই কার্ড হয়নি। এখন টাকা ফেরত চাইলে জিল্লুর মামলার ভয়ভীতি দেখান।” ওই গ্রামের ছকু মিয়া জানান, “আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমিসহ ঘর পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা নিয়েছিলো। ঘর হয়নি আমার নামে। এখন টাকা ফেরত চাইলেই তিনি বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। এ বিষয়ে আইনের সহায়তা চেয়েছেন ওই ভুক্তভোগী।” থানা অফিসার ইনচার্জ শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ জানান, “বিষয়টি শুনেছি। তবে এখনো কোনো অভিযোগ পাননি। পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান ওসি।”