


রংপুরের পীরগঞ্জে এক নারীকে পথরোধ করে মারধর, গাছবাগানে নিয়ে আটকে রেখে ধর্ষণের চেষ্টা, নগ্ন ভিডিও ধারণ এবং তাঁর স্বামীর কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে পাঁচ তরুণের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই নারী। এতে অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনের কথাও বলা হয়েছে।
অভিযোগকারী নারী উপজেলার কুমেদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। অভিযুক্ত পাঁচজন হলেন তারেক মিয়া (২২), বাবু মিয়া (২৩), মিরাজুল মিয়া (২৪), হিমেল মিয়া (২১) ও নাঈম মিয়া (২০)। থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট রাত নয়টার দিকে তাঁর স্বামী ও প্রতিবেশী আবদুল হালিম মিয়ার সঙ্গে কুমেদপুর বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কাঁচা মরিচ কেনার জন্য তাঁর স্বামী আবার বাজারে চলে যান। পরে তিনি আবদুল হালিমের সাথে বাড়ির দিকে রওনা হন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দিকে তাঁরা তারেক মিয়ার বাড়ির সামনে পৌঁছালে আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা কয়েকজন তাঁদের পথরোধ করেন। এ সময় তাঁদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপবাদ দেওয়া এবং আবদুল হালিমের কাছে টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে আবদুল হালিম সেখান থেকে পালিয়ে যান।
এরপর একটি গাছবাগানে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি চিৎকার করলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁর পরনের কাপড় খুলে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে ভিকটিমকে সেখানে আটকে রেখে তাঁর স্বামীর কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। ভয়ভীতি দেখিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে তাঁদের শেখানো কথা বলতে বাধ্য করেন এবং সেই বক্তব্যও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ৮ আগস্ট ভোর চারটার দিকে তার স্বামীকে ডেকে এনে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁকে স্বামীর কাছে দিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তার স্বামীসহ আরও কয়েকজন অবগত আছেন বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমূল হক বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।