


তিনি জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। দিনে অন্তত ২ থেকে ৩ বার এক থেকে দেড় ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকছে না। ভাদ্রের তীব্র গরমে ঘেমে অস্থির হচ্ছে পরিবারের ছোট-বড় সদস্যরা। গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, আর ইদানিং ওয়াসার লাইনেও ঠিকমতো পানি পাওয়া যাচ্ছে না।
দেশে প্রতিদিন গ্যাসের মোট চাহিদা ৩.৮ বিলিয়ন ঘনফুট। কয়েক দিন আগেও সরবরাহ কমে ১.৬ থেকে ১.৭ বিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছিল যা গত ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন রেকর্ড।
পেট্রোবাংলার নির্ভরযোগ্য দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১২টায় দেশে সর্বমোট ২.৩৮২ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। মোট উৎপাদিত গ্যাসের মধ্যে ১.৬২০ বিলিয়ন ঘনফুট আসছে দেশীয় উৎস থেকে এবং ০.৭৬২ বিলিয়ন ঘনফুট আসছে আমদানিকৃত এলএনজি (এলএনজি) থেকে।
অন্যদিকে সার কারখানাগুলোকে দেওয়া হচ্ছে ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে শিল্প, আবাসিক ও অন্যান্য খাতের জন্য অবশিষ্ট থাকছে মাত্র ৮৫০ মিলিয়ন ঘনফুট, যেখানে কয়েক সপ্তাহ আগেও এসব খাতে বরাদ্দ দেওয়া হত ১.৬ থেকে ১.৬৫ বিলিয়ন ঘনফুট।
গ্যাস সংকটের কারণে বাসায় বিকল্প হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার বা ইনডাকশন চুলা ব্যবহার করতে গিয়ে পরিবারগুলোর মাসে ১ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচ হচ্ছে। একই সঙ্গে লোডশেডিংয়ের কারণে আইপিএস ও চার্জার ফ্যানের চাহিদাও তুঙ্গে।
রাজধানীর মগবাজারের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘সংসারে খরচ বাড়লেও আয় বাড়ছে না। গত দুই মাস ধরে বিদ্যুতের বাড়তি বিল গুণতে হচ্ছে। আগে যেখানে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকার মতো বিল আসতো এখন একই ব্যবহারে এক থেকে দেড় হাজার টাকা বেশি আসছে।’
তিনি জানান, গ্যাস না থাকায় বাসায় চুলা জ্বলছে না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছেলেকে প্রতিদিন সকালে ক্লাসে যাওয়ার আগে নাস্তার জন্য আলাদা টাকা দিতে হচ্ছে।
একই সংকটের কথা জানান ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, চুলায় গ্যাস না আসলেও প্রতি মাসে নিয়মিত গ্যাসের বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। কার কাছে এ দুঃখের কথা বলবো? লোডশেডিং ও গ্যাস সমস্যার পাশাপাশি গত দুই দিন ধরে ওয়াসার লাইনেও পানি ঠিকমতো আসছে না।
এদিকে ওয়াসার পানির অভাব ও লোডশেডিংয়ের কারণে নগরজুড়ে দেখা দিচ্ছে সুপেয় পানির সংকট।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও একাধিক চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, ফুটানো পানির অভাবে অনেকে অপরিষ্কার পানি পান করায় পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিশ্ববাজারে জ্বালানি পরিস্থিতি ও এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করা কঠিন। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন অক্ষুণ্ন রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।