


কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার না পেয়ে ডিলারের গুদাম থেকে সার নিয়ে গেছে কৃষকরা। রবিবার (২৩ আগষ্ট) সকালের দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ লুট হওয়া সার উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। লুট , হওয়া সার কেউ কেউ ফিরিয়ে দিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কৃযিবিভাগ।
জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে সারের নিরব শঙ্কট চলছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।উপজেলার শিলখুড়ী ইউনিয়নের কৃষকরা বারবার চেষ্টা করেও সার পাচ্ছিলেন না বলে তাদের অভিযোগ। ডিলারদের বিরুদ্ধে বাজারে সার বিক্রির অভিযোগও তুলছেন তারা। কৃষকদের অভিযোগ ডিলারদের গুদামে সার না মিললেও খোলা বাজারে বেশি দামে সার মিলছে।
এ অবস্থায় শিলখুড়ি ইউনিয়নের সার ডিলার ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্স বরাদ্দের ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করে গুদামে রাখেন। কৃষকরা বারবার গেলেও ডিলারের লোকজন সার দিচ্ছিলেন না। পরে রবিবার সকালে স্থানীয় কৃষকরা একজোট হয়ে গুদাম ভেঙে ইউরিয়া সার নিয়ে যায়। পরে বিষয়টি ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনার প্রতিরোধ করে পুলিশ। এক পর্যায়ে সার ফেরত দিতে কৃষককে অনুরোধ করলে কিছু সার ফেরত দিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ডিলার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুলের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, কৃষকরা সার না পাওয়ার শঙ্কা থেকে গুদাম থেকে সার নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে থামিয়েছে। এরমধ্যে ১৯০ বস্তা সার কৃষকরা নিয়ে গেছে। পুলিশের তৎপরতায় ৫৮ বস্তা সার ফেরত পাওয়া গেছে। বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার জানান, ওই ইউনিয়নে মোট বরাদ্দ ছিল ১৩শ ২০ বস্তা ইউরিয়া সার । এর মধ্যে এবারের ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করেছেন ওই ডিলার। ঘটনার দিন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্হিতিতে সার বিতরন চলাকালীন সময়ে কিছু উশৃঙ্খল জনতা ডিলারের গোডাউন ভেঙে ১৯০ বস্তা সার জোরপূর্বক নিয়ে যায়। পরে স্হানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিদের সহায়তায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ ৫০ বস্তা সার উদ্ধার করেছেন। বাকী সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন,আমি এবং সাকেল এএসপি সাহেব ঘটনাস্থলে আছি ।সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে রিপোর্ট দিব।