


কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’ কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিতদের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর বিষয়টি সামনে আসে এবং সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই নেতার নাম ধীমান রায়। তিনি রাজারহাট উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়,গত ২৪ জুলাই সুপারভাইজার এবং তথ্য সংগ্রহকারী পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দুটি পদের বিপরীতে ছয় শতাধিক আবেদন জমা পড়ে। পরে পরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত তালিকায় ১৭০ জনের নাম প্রকাশ করে প্রশাসন।
তালিকা প্রকাশের পরপরই ছাত্রলীগের পদধারী নেতা অপেক্ষামান চূড়ান্ত ফলাফলে স্থান পাওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। ক্ষুব্ধ নেটিজেনদের অভিযোগ,ফ্যামিলি কার্ডের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ রাজনৈতিক পরিচয় ও পটভূমি যাচাই-বাছাই করা হয়নি। ফ্যামিলি কার্ড শুমারি প্রকল্পের গণনাকারী নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ। এদিকে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
ফেসবুকে আলামিন আশিক লেখেন,সর্বোচ্চ পরীক্ষা দিয়েও ফলাফল শূন্য,এত ভালো পরিক্ষা দেওয়ার পরও যদি নাম না আসে তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়! মেধা না কোটা? না ক্ষমতা? প্রাপ্ত নম্বরগুলো প্রকাশিত করার অনুরোধ ইউএনও রাজারহাট কুড়িগ্রাম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই,যাচাই-বাছাই না করে যারা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীকে দায়িত্ব দিয়েছেন,তারা অন্যায় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। এত বড় একটি মেগা প্রজেক্টে কীভাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের লোক প্রবেশ করল? প্রকাশিত ফলাফলে আরও অনেকের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার খবর দেখা যাচ্ছে,যা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা ধীমান রায় বলেন,আমি অন্য সবার মতো পরীক্ষা দিয়েছি। তবে তালিকায় নাম আসবে বা পাস করব,তা আগে ভাবিনি।’
বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম বলেন,ফ্যামিলি কার্ডের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচির দায়িত্বে আনার ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা ও রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করা অপরিহার্য। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্ট কেউ কীভাবে এমন দায়িত্ব পেল,তা দ্রুত খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’
সার্বিক বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।