
দারিদ্র্যকে জয় করে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার চার মেধাবী শিক্ষার্থী। কারও বাবা হোটেলকর্মী, কেউ কৃষকের সন্তান, কারও বাবা দিনমজুর কিংবা গার্মেন্টস শ্রমিক। অভাবের সংসারে কখনো অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে, কখনো প্রাইভেট পড়িয়ে, আবার কখনো বাবার সঙ্গে ক্ষেত-খামারে দিনমজুরি করে পড়াশোনা চালিয়েছে তারা। কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে অর্জন করেছে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।
তবে সাফল্যের আনন্দের মাঝেও এখন তাদের সামনে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে উচ্চশিক্ষার খরচ জোগানোর অনিশ্চয়তা। কাউনিয়া মোফাজ্জল হোসেন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ফাতিন হাসনাত পরশ, ইফফাত আরা ইথিন ও আবির হাসান। একই বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে তালুক শাহাবাজ গ্রামের রাসেল মিয়া।
শাহাবাজ থানাপাড়া গ্রামের গার্মেন্টস কর্মী মো. আজাদুল ইসলামের ছেলে ফাতিন হাসনাত পরশ। অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে থেকেও থেমে থাকেনি তার পড়াশোনা। নিজের পড়ার খরচ জোগাতে প্রাইভেট পড়িয়েছে সে। পরশের স্বপ্ন ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীর বড় কর্মকর্তা হওয়া।
ভূতছাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক ইদ্রিস আলীর মেয়ে ইফফাত আরা ইথিন। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে পড়াশোনার খরচ জোগাতে টুপি সেলাইয়ের পাশাপাশি প্রাইভেট পড়িয়েছে সে। কষ্টের মধ্যেও জিপিএ-৫ অর্জন করা ইথিনের স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়া।
তালুক শাহবাজ আটনী গ্রামের হোটেলকর্মী আতাউর রহমানের ছেলে আবির হাসান। মাত্র ৮ শতক ভিটেমাটি ছাড়া পরিবারের তেমন কোনো সম্পদ নেই। নানা অভাব-অনটনের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে আবির। তারও স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়ার।
অন্যদিকে তালুক শাহাবাজ গ্রামের দিনমজুর আব্দুল হাকিমের ছেলে রাসেল মিয়া। বাবার সঙ্গে ক্ষেত-খামারে দিনমজুরি করে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেছে সে। সেই সংগ্রামের মধ্যেই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে রাসেল। ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হতে চায় সে।
চার শিক্ষার্থীর সাফল্যে তাদের পরিবার ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আনন্দিত হলেও উচ্চশিক্ষার ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। ভালো কলেজে ভর্তি, বই-খাতা, কোচিং ও থাকা-খাওয়ার খরচ কীভাবে জোগাড় হবে—এ নিয়ে শঙ্কায় শিক্ষার্থীদের পরিবার। কাউনিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, অর্থসংকট ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও চার শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জন পুরো উপজেলার জন্য গর্বের। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে তাদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থেমে গেলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক হবে। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা বলেন, চরম দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতাকে জয় করে চার শিক্ষার্থীর সাফল্য প্রশংসনীয়। অর্থাভাব যেন তাদের উচ্চশিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। তাদের ভর্তি ও পড়াশোনা চালিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
Related