উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বর্তমানে ১১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত নিবন্ধিত (ডিআরভুক্ত) মোট শিক্ষার্থী ২৫ হাজার ৪৭৭ জন। তবে ১১৫টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫০টিতেই কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। পাশাপাশি ৩০টি সহকারী শিক্ষকের পদও দীর্ঘদিন ধরে খালি। ফলে সহকারী শিক্ষকেরা দাপ্তরিক কাজ ও প্রশাসনিক ঝামেলা সামলাতে গিয়ে নিয়মিত ক্লাস নিতে পারছেন না, যা পাঠদানে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
সরেজমিন বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, কাগজে-কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা শত পার হলেও বাস্তবে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি মাত্র ২০ থেকে ২৫ জন; কোথাও বা ৫০-৬০ জন। সরকারি স্কুলে উন্নত অবকাঠামো ও নানা সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও মানসম্মত শিক্ষার অভাবে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অভিভাবকেরা। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন ও প্রচারণার মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের টেনে নিচ্ছে কিন্ডারগার্টেনগুলো।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, বিশেষ করে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকরা নিয়মিত ও আন্তরিকতার সঙ্গে ক্লাস নেন না। চরাঞ্চলগুলোতে সচেতনতার অভাবে অভিভাবকেরাও শুধু উপবৃত্তির সময় ছাড়া সন্তানদের খোঁজ নেন না। কাগজে-কলমে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি (এসএমসি) থাকলেও শিক্ষার মান উন্নয়নে তাদের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই। এমনকি বছরের শুরুতে সরকারি স্কুলের আগে বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনগুলোতে সরকারি বই পৌঁছে যাওয়া এবং অননুমোদিত কিন্ডারগার্টেনের দাপট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা বেগম জানান, “শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও পরীক্ষার সময় তা বাড়ে। উপস্থিতি বাড়াতে মা সমাবেশ, হোম ভিজিট ও নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। শিক্ষক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা ও শিক্ষক সংকট নিরসনে আমরা অত্যন্ত আন্তরিক। শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি দ্রুত সুরাহা করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তদারকি বাড়িয়ে পাঠদান স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”