


মাইক্রোসফটের সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছেন নীলফামারীর ডোমার উপজেলার কৃতি সন্তান আল নাসিরুল্লাহ সিদ্দিকী (সোহান)। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ তথ্য জানান। এর আগে, ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সার্চ ইঞ্জিন ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলে কাজ করেন সোহান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে স্নাতক শেষ করেই দেশের দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন সোহান। এরপর ২০২০ সালে মাস্টার্স করতে পাড়ি জমান জার্মানিতে। সেখানে ১ম সেমিস্টার পড়াকালীন সময়ে বিভিন্ন সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকরির আবেদন করা শুরু করেন। এর মধ্যে খানিকটা বিশ্বের সর্ববৃহৎ সার্চ ইঞ্জিন ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলেও আবেদন করেন তিনি। এরপর পরীক্ষার সব ধাপ পেরিয়ে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর গুগলের পোল্যান্ড অফিসে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার (সাইট রিলায়েবিলিটি ইঞ্জিনিয়ার) হিসেবে যোগ দেন। প্রায় ৩ বছর ৯ মাস চাকরী করা পর আজ ২৪ আগস্ট যোগ দেন মাইক্রোসফটের সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে।
আল নাসিরুল্লাহ সিদ্দিকী সোহান ডোমার পৌর শহরের পল্টনপাড়া এলাকার হামিদার ও আয়েশা দম্পতির ছেলে। বাবা হামিদার রহমান ভূমি অফিসের প্রাক্তন সহকারী কর্মকর্তা ও মা উম্মে আয়েশা সিদ্দিকা গৃহিণী। দুই ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছোট।
সোহান ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১১ সালে এসএসসি এবং রংপুর সরকারি কলেজ থেকে ২০১৩ এইচএসসি পাস করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ থেকে ২০১৮ স্নাতক শেষ করেন। এরপর অরবিটেকস বাংলাদেশে ১১ মাস ও স্যামসাং কোম্পানিতে এক বছরের মতো সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন। এরপর ২০২০ সালে মাস্টার্স করতে পাড়ি জমান জার্মানিতে। সেখানে জার্মানির টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অফ ডর্টমুন্ডে ডেটা সাইন্সে স্নাতকোত্তর পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সফটওয়্যার কোম্পানিতে খণ্ডকালীন চাকরির খোঁজ করছিলেন তিনি। এরপর খানিকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই গুগলে চাকরি পেয়ে যান। সেখানে
কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সব সময় নানা বিষয়ে সহযোগিতা পেয়েছেন বড় ভাই শাহেদ শাহরিয়ারের। তিনি বর্তমানে গুগলের ডাবলিন শাখায় কর্মরত। এরপর তার সহযোগিতা ও নির্দেশনা অনুসরণ করে নিজেকে প্রস্তুত করেন সোহান।
নাসিরুল্লাহ সিদ্দিকি (সোহান) এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে বুধবার (২৬ আগস্ট) তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লিখেন “আলহামদুলিল্লাহ। আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমি মাইক্রোসফটে সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগদান করেছি। সবার কাছে দোয়ার আবেদন রইল।”
নাসিরুল্লাহ সিদ্দিকী সোহানের বাবা মো. হামিদার রহমান আনন্দিত তার ছেলের এই সফলতার জন্য। ছেলে যেন আরও বড় হয় সেই সাথে সোহানের জন্য সকলের নিকট দোয়া কামনা করেন তিনি।
ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিন জানান, সোহান আমাদের বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তার নতুন কর্মস্থলে যোগাদানের খবরে আমরা অনেক আনন্দিত এবং তার জন্য আমরা গর্বিত।