1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
কম খরচে বেশি ফলনে পার্বতীপুরে আগাম ধানে কৃষকরা খুশি | দৈনিক সকালের বাণী
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ন

কম খরচে বেশি ফলনে পার্বতীপুরে আগাম ধানে কৃষকরা খুশি

সোহেল সানী, পার্বতীপুর,দিনাজপুর
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৪
  • ২৮০ জন দেখেছেন
আগাম ধানে কৃষকরা খুশি

একমাস আগেই ব্রি-ধান উঠছে কৃষকের ঘরে। এলাকার কৃষক অরুণ চন্দ্র রায় ব্রিধান-৭৫ ধানি গোল্ড হাইব্রিড কাটা-মাড়াই করে তাক লাগিয়ে দিলেন এলাকার কৃষকদের। এখনও আমন ধান কাটতে প্রায় এক মাস লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ। এখন ফসলের মাঠতে ঢেউ খেলছে আমন ধান। কোথাও ফুল ফুটে রয়েছে, আবার কোথাও শুরু করেছে ধানে চালও হতে। ধান কাটার দিন অরুণ চন্দ্র রায় বলেন, এ মাঠে এখনও কোনো ধান পাকেনি। আমি ধান কেটে ফেলেছি সবাই অবাক। প্রথম চাষের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, আমন আগাম জাতের ব্রিধান চাষে সেচ, সার, কীটনাশক খরচ অনেকটাই কম লাগে। একসাথে রোপণ করার পর আমার জমির ধান কাটা হচ্ছে একমাস আগে।

 

অন্যদের আরও ১-২ টি সেচ জমিতে দিতে হতে পারে। একমাস পরিশ্রম বেশি করতে হবে। আর আমি সে সময়ে রবিশস্য চাষ বলতে সরিষা করবো। তারপর করবো ভুট্টা। অরুণ চন্দ্র রায় আরও বলেন, আগে যে জমিতে ২ ফসলের বেশি আবাদ করা যেত না, এখন সেই জমিতে ৩টি ফসল করতে পারছেন। তাই এই ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের বীজ, সারসহ কারিগরি সহায়তা করছেন। দ্বিগুণ ফসল উৎপাদনে ব্রিধান প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকরা একই জমিতে তিন ফসল পাচ্ছেন। এরফলে উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে কৃষকের আয়।

মন্মথপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. ফারুক আহম্মদ বলেন, প্রায় এক মাস আগে আগাম জাতের ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগমুক্ত আমনের ভালো ফলন হয়েছে। বর্তমান বাজারে ভালো দাম থাকায় কৃষকরাও খুশি। এদিকে ধানের খড়ের দামও অনেক বেশি। তাই বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। আগাম জাতের ধান আবাদ করে উক্ত জমিতে আগাম জাতের আলু ও মৌসুমি রবিশস্য আবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন কৃষকেরা। দুই বিঘা জমিতে আগাম জাতের ব্রিধান-৯৭ লাগিয়েছিলেন।

বিঘায় ফলনও পেয়েছেন ২০ মন। প্রতি মন বিক্রি করেছেন ১ হাজার ২শ টাকা মণ দরে। তাছাড়া ধানের পাশাপাশি খড় বিক্রি করে ৮ হাজার টাকা দাম পেয়েছেন অনেক বেশি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে এবার ৩ হাজার ১০২ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আমন উপসি জাতের ৬৫০ হেক্টর জমিতে ব্রি ধান ৭৫, ৮৭, ৯০, ৯৩ ও ১৭ ধান চাষ করা হয়েছে। মন্মথপুর ইউনিয়নের কৈবত্যপাড়া গ্রামের কৃষক অরুন চন্দ্র রায় তিনি এবার দুই বিঘা জমিতে আগাম জাতের ধান আবাদ করে বেশ ভালো ফলন পেয়েছেন। বর্তমানে সেই জমিতে তিনি আগাম জাতের সরিষা চাষ করে পরবর্তীতে একই জমিতে ভুট্টা চাষ করবেন।

পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকতা মো: রাজিব হোসাইন জানান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি ধান-৭৫) উদ্ভাবিত আগাম জাতের ব্রি-ধান ৭৫, ৮৭, ৯০, ৯৩ ও ১৭ কোটরাপারি জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। কৃষকেরা দাম ভালো পেয়েছে। চলতি বছর এ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন চাষ করা হয়েছে।

কৃষি অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তাগণ মাঠ পর্যায়ে আমন চাষিদের পরামর্শ দিয়ে এবং আগাম জাতের আলু, ভুট্টা, সরিষা ও শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের জন্য উৎসাহিত করছেন। আগাম জাতের ধান আবাদ করে কৃষকরা একদিকে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে অপরদিকে একই জমিতে বছরে ৩টি ফসল করতে পারছেন। একটা সময় দুটি ফসলের বেশি করতে পারতো না। ফলন প্রতি হেক্টরে ৫ দশমিক ০৭ থেকে ৫ দশমিক ৪১।

এর দানা লম্বা ও চিকন। এ জাতের ধানের দানার রং সোনালী। এ জাতের জীবনকাল মাত্র ১১২ দিন। এবার উপজেলায় ২৮ হাজার ৮শ ৮২ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮শ ৫৩ মেক্টিক টন ধান হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )