


ডিবি ও পীরগঞ্জ থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে আন্ত:বিভাগ ডাকাত দলের ৬ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে ৩দিন ধরে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার সাভারের হেমায়েতপুর থেকে ৪ জন ও গাজীপুরের এনায়েতপুর থেকে ২ জনসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি পিকআপ (ছোট ট্রাক) জব্দ করা হয়। এ বিষয়ে শুক্রবার বিকেলে পীরগঞ্জ থানায় প্রেস ব্রিফিং করেন রংপুরের পুলিশ সুপার মারুফাত হোসাইন। পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানান, গত ২৬ মার্চ দিবাগত রাতে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের বড়দরগাহ মকিমপুরে রংপুর কেমিক্যাল লিমিটেড নামে একটি কোম্পানিতে ১৪/১৫ জনের একটি ডাকাত দল ডাকাতির চেষ্টা করে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুইটি পিকআপ যোগে ডাকাত দলের সদস্যরা পালিয়ে যায়।
ওই ঘটনায় কারখানার মালিক হাবিবুল ইসলাম রুহুল বাদী হয়ে ২৭ মার্চ মামলা রুজু করেন। গ্রেফতার কৃতরা হলো- সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিরপুর থানার ঘোড়াগাছা রেহাই শুরিবেড় গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে রুবেল রানা (২৭), বগুড়া জেলার গাবতলী থানার পনির পাড়ার কাদের প্রামাণিকের ছেলে মানিক (২৭), খুলনা জেলার লবণচড়া থানার ৩১ নং শিপ ইয়ার্ড এর বাদল শেখ এর ছেলে ইব্রাহিম (২৫), একই গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে সাইমুন আমিন শুভ (২৬), পিরোজপুর জেলার সদর উপজেলার ভাইজোড়ার পান্না শরিফের ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৫) ও চাঁদপুর জেলার হাইমচর থানার তফোদারকান্দির দুদুমিয়ার ছেলে সোহাগ মিয়া (২২)। পুলিশ সুপার আরও জানান, ডাকাতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এরা নিয়মিত বিভিন্ন শিল্পকারখানায় ডাকাতি করেন। সম্প্রতি পাবনায় ট্রান্সমিটার মালামাল চুরির ঘটনা ঘটলে তাদেরকে সনাক্ত করতে সহজ হয়েছে। ধৃত ডাকাত দলের সদস্যরা স্বীকার করেছেন তারা পীরগঞ্জের কেমিক্যাল কোম্পানিতে ২৬ মার্চ ডাকাতির চেষ্টা করেন। এদের সাথে আরো কয়েকজন জড়িত রয়েছে, তাদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
২১ এপ্রিল ঢাকার ধামরাইয়ের একটি কারখানায় ব্যাটারি চুরির ঘটনায় কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়, সেখানে পিকআপ দুইটি জব্দ করা হয়। ডাকাতরা জানান পীরগঞ্জে কেমিক্যাল কোম্পানিতে ডাকাতি করতে ২২ জনের সংঘবদ্ধ একটি দল ছিল। ২২ জনের মধ্যে ৬ জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তারা সারা বাংলাদেশে মিল ফ্যাক্টরি শিল্প কলারখানা সহ বড় ধরনের কোম্পানিতে বিশেষ করে ট্রান্সমিটার, ব্যাটারি ও ক্যাবলের কোম্পানিগুলোতে যেসব মালামাল থাকে তারা সেটা চুরি অথবা ডাকাতি করে থাকে। সিসি ক্যামেরার সহযোগিতায় পীরগঞ্জের কেমিক্যাল কোম্পানিতে ডাকাতির ঘটনার চিত্র দেখে ডাকাতদের সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীকে আমরা ম্যাসেজ দিতে চাই বড় বড় শিল্প কলকারখানা এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে তারা যেন সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে রাখে। এই বড় গ্রুপটাকে আইনের আওতাও এনে দ্রুততার সাথে বিচারকার্য শেষ করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হলে শাস্তির সাজা অনুযায়ী যার যত বছর জেল হোক, সেই ক’বছর বড় বড় প্রতিষ্ঠানের মালিকরা নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন। সাজা দিতে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা প্রয়োজন। সাংবাদিকদের মাধ্যমে আরো একটি ম্যাসেজ দিতে চাই, দেশের যেখানে ট্রান্সমিটার, ক্যাবল, ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটেছে তারা যেন ওইসব মামলায় এদেরকে শ্যোন এরেস্ট দেখান।