
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চরম অব্যবস্থাপনার শিকার। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা নিয়মিত দেরিতে আসেন এবং তাড়াতাড়ি চলে যান, ফলে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের আরাজী শেখ সুন্দর মিস্ত্রিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক হামিদুর রহমান ও সহকারী শিক্ষিকা সালমা আক্তার অনুপস্থিত। বিদ্যালয়ের পরিবেশও ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর, যা দেখে মনে হচ্ছিল এটি যেন পরিত্যক্ত কোনো স্থাপনা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হামিদুর রহমান বিদ্যালয়ের অপরিচ্ছন্নতার কথা স্বীকার করে জানান, প্রতিদিন এমনটি হয় না। তবে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অত্যন্ত কম। বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণিতে ৪ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৪ জন এবং তৃতীয় শ্রেণিতে মাত্র ৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে। স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নেই বললেই চলে। শিক্ষকরা নিয়মিত দেরিতে আসেন এবং ক্লাস শেষ হওয়ার আগেই চলে যান। এ কারণে তারা তাদের সন্তানদের স্কুলের পরিবর্তে মাদ্রাসায় ভর্তি করাচ্ছেন।
প্রধান শিক্ষক হামিদুর রহমান ও সহকারী শিক্ষিকা সালমা আক্তার দেরিতে আসার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ব্যক্তিগত কারণে সেদিন তারা কিছুটা দেরি করেছেন। বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও শিক্ষার মান নিয়ে অনুসন্ধান করতে গেলে প্রধান শিক্ষক হামিদুর রহমান সাংবাদিককে নিউজ প্রকাশ না করার জন্য টাকা দিয়ে ম্যানেজ করারও চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মিঠুন চন্দ্র বর্মন বলেন, “শিক্ষকরা যদি নিয়মিত দেরিতে আসেন, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নত হবে এবং শিশুদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
Related