


গাইবান্ধার ফুলছড়ি থানা ভবনের প্রবেশপথে গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম সংবলিত একটি ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের নামফলক (নেমপ্লেট) এখনো দৃশ্যমান রয়েছে। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাবার পর থেকে সরকারি অফিস-আদালতে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি সরিয়ে ফেলা হয় এবং নামফলকগুলো অদৃশ্যমান করা হয়। কিন্তু সরকার পতনের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও ব্যতিক্রম ফুলছড়ি থানার প্রবেশপথ। অদৃশ্য বলে এখনো স্পষ্ট রয়েছে শেখ হাসিনার নাম। “২৫ জানুয়ারি ২০১৪ ফুলছড়ি থানার ভবন নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন শেখ হাসিনা” এই নামফলকটি থানা ভবনের প্রবেশপথে এখনো দৃশ্যমান থাকায় এ নিয়ে সর্বত্র ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারী) বিকাল ৪ টায় ফুলছড়ি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক তৈয়ব আলী তার ফেসবুক পোস্টে নামফলকের ছবি সংযোজন করে লিখেন, যেখানে সারাদেশে ফ্যাসিস্ট দমনে নানা পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। ছাত্র-জনতা বুলডুজার প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে। সেখানে কিভাবে একটি থানার মূল প্রবেশপথে ফ্যাসিস্ট হাসিনার নাম এখনো দৃশ্যমান থাকে? এই কার্যকালাপে বোঝা যায় এই থানার ওসি একজন ফ্যাসিস্ট এর দালাল। অতিবিলম্বে ওসির অপসারণ চাই। নতুবা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। থানায় এখন পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামের নামফলক থাকায় স্থানীয় ছাত্র-জনতা ও বিএনপি নেতাদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
ছাত্রদল নেতা তৈয়ব আলীর ফেসবুক পোস্টে নেটিজেনরা নিজের মত করে মন্তব্য করছেন। হাবিবুর রহমান হাবিব কমেন্টে লিখেন, ২৪ঘন্টার মধ্যে ওসি কে হাসিনা মার্কা ভাষ্কর্য সরিয়ে ফেলতে হবে। ওসি সাহেব যদি না পারে এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রদল গিয়ে ওসি সহ ফুলছড়ি থানা থেকে কিক আউট করবে ইনশাআল্লাহ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গাইবান্ধা জেলা শাখার মুখপাত্র জাহিদ হাসান জীবন বলেন, ফুলছড়ির মাটিতে ফ্যাসিস্ট সরকারের কোন চিহ্ন রাখা হবে না। প্রশাসনের নিজ উদ্যোগে এসব স্থাপনা যত দ্রুত সম্ভব অদৃশ্য করতে হবে। তা না হলে ছাত্ররা নিজ উউদ্যোগে এসব ফলক সরানোর কাজ করবে।
এ বিষয়ে ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার হাফিজুর রহমানকে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেননি।