1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
খানসামায় নেতৃত্ব দ্বন্দ্বের জেরে কর্নেল মোস্তাফিজের ওপর হামলা, আহত ২৭ | দৈনিক সকালের বাণী
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৫:১৫ অপরাহ্ন

খানসামায় নেতৃত্ব দ্বন্দ্বের জেরে কর্নেল মোস্তাফিজের ওপর হামলা, আহত ২৭

খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫
  • ১৯৬ জন দেখেছেন

দিনাজপুরের খানসামায় দীর্ঘদিন ধরেই উপজেলা বিএনপিতে নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। সেই দ্বন্দ্বের জেরে দিনাজপুর ৪ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান ও তার অনুসারীদের উপরে অতর্কিত হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই হামলায় দিনাজপুর-৪ আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ অন্তত ২৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এছাড়াও সংঘর্ষের সময় প্রায় অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলও ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে, যা পুরো বাজার এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করে।

 

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে উপজেলার কাচিনিয়া বাজার এলাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ৩১ দফা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমানের অনুসারীরা একটি মিটিং করছিলেন। সেই সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ আখতারুজ্জামান মিয়ার অনুসারীরা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জলিল শাহ্-এর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

 

অভিযোগ রয়েছে, তাকে বিবস্ত্র করে লাঞ্ছিত করা হয়। জলিল শাহকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে সাবেক মেম্বার আশরাফ আলীর ওপরও হামলা চালানো হয় এবং মাথা ও পা ভেঙে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

শুক্রবার সন্ধ্যায় কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান ও তার অনুসারীরা ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে কাচিনিয়া বাজারে প্রতিবাদ সভা করেন। প্রতিবাদ সভা শেষে ফেরার সময় আবারও আখতারুজ্জামান মিয়া গ্রুপের অনুসারীরা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভাবকি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল আলম তুহিনের নেতৃত্বে ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজসহ ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ অন্তত ২৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছে।  তাঁদের অনেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

সংঘর্ষের সময় পুরো বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে দিকবিদিক ছুটোছুটি করতে থাকে। খবর পেয়ে খানসামা থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

এ বিষয়ে কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘তারেক রহমানের ৩১ দফা প্রচার ও তৃণমূল বিএনপিকে সংগঠিত করতে গিয়ে আমরা রাজনৈতিক হামলার শিকার হয়েছি। এটা শুধু আমার ওপর নয়, রাজনৈতিক কাজের ওপর আঘাত। এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।’

 

অন্যদিকে, মিয়া গ্রুপের অনুসারী জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক ও ভাবকী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল আলম তুহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তাঁর গ্রুপের কেউ জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

 

খানসামা থানার ওসি নজমুল হক বলেন, “খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তবে পুলিশ তদন্ত করছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )