1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
দীর্ঘ ৩৭ বছরের ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ | দৈনিক সকালের বাণী
মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন

দীর্ঘ ৩৭ বছরের ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

সোহানুজ্জামান সোহান, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর)
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৫৮ জন দেখেছেন

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ঋষিঘাট হিন্দুপাড়া থেকে বৈদড় পর্যন্তÍ প্রায় ১ কিমি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটিতে দীর্ঘ ৩৭ বছরেও লাগেনি কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া। হয়নি রাস্তার সংস্কারের কাজ। এমনকি পড়েনি ইটের রাবিশও।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার ঋষিঘাট হিন্দুপাড়া পাকা রাস্তা থেকে নেমে বৈদড় গ্রামের মাঝ দিয়ে যাওয়ার রাস্তার এখানে সেখানে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কিছু কিছু জায়গায় পানি জমে থাকায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তায় বড় ধরনের গাড়ি চলাচল করতে না পারলেও ভ্যান ও ইজিবাইক চালকরা অতিকষ্ট করে চলাচল করছে। কখনো কখনো গাড়ি কাদায় আটকে পড়ে আবার কখনো গাড়ি উল্টে গিয়ে অনেক দুর্ঘটনাও ঘটছে। স্কুলগামী ছোট্ট শিশুরা অনেক সময় পিছলে পড়ে যাচ্ছে। মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল চালকরা নেমে ঠেলে কোনো রকমে চলাচল করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে তো বটেই, শুকনো মৌসুমেও রাস্তাটি চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। রাস্তায় খানাখন্দ ও কাদা জমে থাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে অটোরিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক চালকদেরও বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে, ফলে বিকল্প পথ দিয়ে যেতে সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে বৈদড় গ্রামের ষাটোর্ধ্ব জোসনা বেগমের সাথে কথা হলে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘এই যাবত যতগুলা চেয়ারম্যান আইছে সবার পাও ধরে কচি, কেউ এক কোদাল মাটিও ফেলায় নাই হামার আস্তাত।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওই ভোলা চিয়ারমানের আম্বোলে আস্থা হোচে, আর কেউ ঘুরেও দেকে নাই’।

একই গ্রামের মনিরুজ্জামান বলেন, আমার জন্মের আগে তৎকালীন ৩নং ইউপি চেয়ারম্যান মতলুবর রহমান ভোলা ১৯৭৭ থেকে ৮৮ সালের মধ্যে কোনো এক সময়ে রাস্তাটি এলাকাবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের স্বার্থে তৈরি করে দিয়েছিলেন। তারপর থেকে বহু চেয়ারম্যান এসেছে কিন্তু এ রাস্তাটির আর কোনো সংস্কার হয়নি। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শতশত মানুষ যাতায়াত করে। এছাড়াও রয়েছে বারোপাইকের গড় উচ্চ বিদ্যালয়, বৈদড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাইনুল ইসলাম হাফেজিয়া এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং নামে ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। বিশেষ করে বর্ষাকালে শিক্ষার্থীরা হাঁটু কাদা মাড়িয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যাতায়াত করে। কাদা মাড়িয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে চায়না।

 

বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন বলেন, কিছুদিন আগে ইউএনও মহোদয় রাস্তাটি পরিদর্শন করেছেন। রাস্তাটির সলিং এর কাজ করা হবে। যখন রাস্তা সংস্কার বা তৈরির বাজেট আসবে, আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে করে দিবো।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলামের সাথে হলে তিনি বলেন, ‘একটি ভাল রাস্তা শুধু মানুষের যাতায়াতই সহজ করে না, বরং এলাকার অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাগত উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সমস্যা সমাধানে আমরা ইতোমধ্যেই প্রাথমিক জরিপ, প্রকৌশল বিভাগের সাথে সমন্বয় এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে রোডম্যাপ তৈরি করেছি। খুব দ্রুতই এর বাস্তবায়ন দেখতে পাবো আশা করছি।’

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )