সোমবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ১২ টায় ঘোড়াঘাট থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর সহকারী পুলিশ সুপার আ.ন.ম নিয়ামত উল্লাহ জানান, গত ২ মে গভীর রাতে উপজেলার নুরপুর গ্রামের মাহাবুবুল আলম শিপন এর বসতবাড়ির গোয়ালঘর থেকে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি শাহীওয়াল জাতের গাভী গরু ও প্রায় ৮০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ফ্রিজিয়ান জাতের বকনা গরু চুরি হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ৩ মে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ঘোড়াঘাট থানার ওসি শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই (নি:) আহনাফ তাহমিদের একটি দল অভিযান চালিয়ে প্রথমে উপজেলার কশিগাড়ি মধ্যপাড়া গ্রামের সাইদুর রহমানের পুত্র মাহমুদুল হাসান মুন্না (২৮) কে সনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের মূলহোতা উপজেলার সিংড়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের পুত্র কাওসার ইসলাম (৩০) কে গ্রেপ্তার করা হয়। কাওসার ইসলাম পূর্বেও রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানায় দস্যুতার মামলা ও ঘোড়াঘাট থানায় ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় জড়িত ছিল। মামলাগুলো বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করাকালীন চুরি করা গরু সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা গরুর হাটে ৯৫ হাজার টাকায় দুটি গরু বিক্রি করে টাকা ভাগবাটোয়ারা করে অবশিষ্ট ৬০ হাজার টাকা তার কাছে বলে স্বীকারোক্তি দেয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যমতে আরও তিন সহযোগীকে থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত আরও তিন সহযোগী উপজেলার শেখালীপাড়া গ্রামের মৃত জাহিদ মোল্লার পুত্র সুভেল মিয়া (৩০), দক্ষিণ দেবীপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের পুত্র আল রাহিদ আপন (২৫) ও বেলওয়া নয়নদিঘি এলাকার ফারুক ইসলামের পুত্র ফাহিম ইসলাম (২৫)। এ সময় তাদের কাছে থাকা গরু চুরিতে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান (রেজি নং-বগুড়া ন-১১-১৮৩১) ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে, ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর সার্কেলের শিক্ষানবীশ সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল সাদমান, ঘোড়াঘাট থানার ওসি শহিদুল ইসলাম, তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নি:) আহনাফ তাহমিদ সহ উপজেলার প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ.ন.ম নিয়ামত উল্লাহ ভবিষ্যতেও চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ সবধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ তার অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন।