1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
দীর্ঘ ২৮ বছর জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন ইউপি সদস্য রাধা চরণ | দৈনিক সকালের বাণী
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন

দীর্ঘ ২৮ বছর জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন ইউপি সদস্য রাধা চরণ

ফুলবাড়ি (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৪৩ জন দেখেছেন
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দীর্ঘ ২৮ বছর জনপ্রতিনিধি থাকাকালীন সময়ে জনগণের কল্যাণে দায়িত্ব পালন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাবেক ইউপি সদস্য রাধা চরণ রায় (ইন্দুর মেম্বার)।
বর্তমানে জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি রাধা চরণ রায় (ইন্দুর মেম্বার) এর বয়স ৯৮ বছর। জনপ্রিয় সাবেক জনপ্রতিনিধি ইন্দুর মেম্বার বয়সের ভারে অনেকটা বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগ থাকার পরেও তার প্রত্যেকটা দিন আনন্দের মাঝে কেটে যাচ্ছেন। তিনি ঘুম থেকে উঠে লাটি ভর দিয়ে বাড়ির উঠানে মাচা (চাংরায়) বসে বিভিন্ন বয়সের মানুষদের সাথে আলাপচারিতা ও  রেডিওর গান ও খবর শুনে সময় কাটান। এই প্রবীন সুনামধন্য জনপ্রতিনিধির বাড়ি ফুলবাড়ী
উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের সীমান্তঘেষা কুরুষাফেরুষা ৮ নং ওয়ার্ডে। তিনি ওই ওয়ার্ডের দীর্ঘ ২৮ বছরের জনপ্রতিনিধি এবং মৃত গজেন্দ্র চন্দ্র রায়ের একমাত্র ছেলে।
কুরুষাফেরুষা গ্রামের বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাবেক ইউপি সদস্য রাধা চরণ রায় ভালো নাম হলেও তিনি  ইন্দুর মেম্বার নামে বেশি পরিচিত। এলাকার ছোট বড় সবাই ইন্দুর মেম্বার বলে জানেন। ইন্দুর মেম্বার এক টানা ২৮ বছর ইউপি সদস্য নির্বাচিত জনগণের কল্যাণে কাজ করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
তিনি এতোই জনপ্রিয় ও হাস্যজ্জল এবং সাদা মনের মানুষ ছিলেন। ফলে তার প্রত্যেকটি নির্বাচনে পাঁচ থেকে সাতজন করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকার পরেও তিনি বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করেছেন এবং দীর্ঘ ২৮ বছর তিনি জনগণের দোরগোড়ায় গিয়ে নিঃস্বার্থে কাজও করেছেন।
৯৮ বছর বয়সী রাধা চরণ রায় (ইন্দুর মেম্বার) জানান, দীর্ঘ ২৮ বছর কেমন করে জনগণের দোরগোড়ায় গিয়ে কাজ করেছি সেটা এলাকার মানুষজন বলবে। আমি এই দীর্ঘ ২৮ বছর মেম্বারী জীবনে জনগণের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করছি মাত্র।
আমার ২৮ বছর ইউপি সদস্য থাকাকালীন সময়ে বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন সরকার প্রধান ছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, বেগম খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা ও সর্বশেষ ফখরুউদ্দিন। সে সময় আমার নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন শ্রী মনু চন্দ্র দে, মো: কপুর উদ্দিন, ডা: মো: আবু বক্কর, মো: হাসেন আলী ও আলহাজ্ব আব্দুল গফুর আলী। তবে এই পাঁচ জন চেয়ারম্যানের মধ্যে বর্তমানে জীবিত আছেন বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হাসেন আলী।
তিনি আরও জানান আমার তিন স্ত্রী। বড় স্ত্রী দেড় বছর আগে মারা যান। আমার একটিমাত্র মেয়ে সন্তান। মেয়ে ও মেয়ে জামাই দুজনেই শিক্ষকতা করছেন। মেম্বার জীবনে আমি কোন সম্পদ করেনি। কারণ আমার বাবারে অনেক জমিজমা ছিল। এখনো বাড়িভিটাসহ ১৩ বিঘা জমি আছে। বার্ধক্য জনিত রোগ দেখা দিলেও তার মেধাশক্তি এবং কথার যে ভয়েস কোন কমেনি।
ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা মনছার আলী (৬৫) ও ছোবেদ আলী (৭৫) জানান, আমরা দেখেছি রাধা চরণ বাবু কিভাবে মেম্বারি করেছেন। কারো কাছে একটি টাকাও নেননি। নিঃস্বার্থে জনগণের দোরগোড়ায় গিয়ে তিনি দক্ষতার সহিত কাজ করেছেন। তার বিচার ব্যবস্থাও খুব চমৎকার ছিল দুই পক্ষই খুশি হতেন। যেকোন মানুষ বিপদে তার কাছে খালি হাতে ফিরেনি। বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা কেমন সেটা আপনারাও জানেন।
পশ্চিমফুলমতি ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, রাধা চরণ বাবুর সঙ্গে ৮ বছর মেম্বারী করেছি। ওনার বয়স বেশি হলেও তিনি সব সময় উনার বয়সের মেম্বারদের সাথে বন্ধুসুলভ ব্যবহার করতো এবং আমরা সবাই সহপাঠী। আমিও আল্লাহ অশেষ কৃপায় এক টানা চার বারের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছি। বর্তমানেও ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হয়ে জনগণের সেবা করলেও রাধা চরণ বাবুর মতো জনসেবা করতে পারিনি।
আমার জানা মতে ইউনিয়ন পরিষদের  কার্ড রিলিজ, সিলিপসহ যেকোনো অনুদানের ক্ষেত্রে তিনি কোন জনগণের কাছে একটি টাকাও নেননি। এ ব্যাপারে তিনি খুবই নিষ্ঠাবান ছিলেন। আর তার শালিশ বৈঠকও ছিল খুবই চমৎকার। শালিশ বৈঠকে মানুষ ন্যায়বিচার পেতো। ইন্দুর মেম্বার যে কোন শালিশ বৈঠকে উপস্থিত থাকা মানে আমরাসহ জনগণ ন্যায়বিচার পাবে। এই বিশ্বাসটা সবার মাঝেও ছিল।
নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: হাছেন আলী জানান, রাধা চরণ বাবু অত্যান্ত ভালো মানুষ এবং একজন সৎ জনপ্রতিনিধি পরিচিত ছিলেন। আমার ১০ বছর চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে ওনার কোন ধরণের ক্রুটি পাইনি। নি:শ্বাথে কাজ করেছেন।
এছাড়াও তিনি তিন মাস অত্যান্ত সুন্দর ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। আমার জানা মতে আমাদের উপজেলায় তিনি একমাত্র ব্যক্তি ২৮ বছর জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছেন। ওনার মতো কেউ একটা ২৮ বছর মেম্বারী করার সুযোগ নেই। তবে একটানা ১৫ বছর মেম্বারী করেছেন এমন জনপ্রতিনিধির সংখ্যাও কম। আমি ব্যক্তিগত রাধা চরণ বাবুর সুস্থতা কামনা করছি।
নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার জানান, আমার বাবা মরহুম কপুর উদ্দিন নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (চেয়ারম্যান)  ছিলেন। তখনও রাধা চরণ বাবু মেম্বার ছিলেন।
আমরা নিজেও দেখিছি তিনি অত্যান্ত দক্ষতার সহিত মেম্বারী করেছেন। সেই সময় তিনি একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি হিসাবে পরিচিত ছিলেন।  আমার বাবাও বলতেন যত মেম্বার ছিল সবার থেকে রাধা চরণ বাবু একজন সৎ ও যোগ্যতা সম্পন্ন একজন মেম্বার ছিলেন। তার সকল কাজ কর্ম একেবারে গোছানো ছিল বলে বাবা জানাতেন। তিনি এখনো বেঁচে আছেন। আমি তার সুস্থতা কামনা করছি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )