


রংপুরের সদও উপজেলার পাগলাপীরের মাইক্রোবাস চালক ও ব্যবসায়ী লিয়াকত (ছন্দ নাম) সম্প্রতি রাত সাড়ে ১০টায় অপহরণ হয়েছে। এ সংবাদ পেয়ে তার পরিবার বন্ধু বান্ধব আত্নীয় স্বজন সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠে। দুইদিন পেরিয়ে গেলেও তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাই চাপ পড়ে কোতয়ালী থানা পুলিশের উপর।
কোতয়ালী থানা পুলিশের ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন। প্রযুক্তির সহায়তায় তৃতীয়দিন সন্ধ্যায় মাইক্রোবাস চালক ও ব্যবসায়ী লিয়াকতকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জনা যায়, গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে নিজেকে বাচাঁতে অপহরণের মিথ্যা ঘটনা সাজানো হয়। গত একমাসে রংপুর সদর কোতয়ালী থানা এলাকায় এমন তিনটি অপহরণের মিথ্যা ঘটনা ঘটে।
সদর কোতয়ালী থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিটি অপহরণের খবর পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হয়। পুলিশ সদস্যরা তৎপর হয়ে অনুসন্ধান চালান, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অভিযোগটি ভিত্তিহীন। কেউ নিজের ইচ্ছায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছেন, আবার কেউ পারিবারিক বা সামাজিক চাপ এড়াতে মিথ্যা অপহরণের গল্প সাজিয়েছেন। এইসব মিথ্যা অপহরণের ঘটনায় পুলিশের মূল্যবান জনবল ও সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধ তদন্তেও প্রভাব পড়ছে। এ ব্যপারে সদর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মহিউদ্দিন মখদুমী বলেন, মিথ্যা অপহরণের অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপব্যবহার করতে না পারে। একই সঙ্গে জনগণকে সচেতন হতে হবে যাতে এমন ভুয়া ঘটনায় সমাজে আতঙ্ক ছড়িয়ে না পড়ে।