


তাপদাহের মাঝে রংপুর নগরীতে ২ থেকে ৩ ডিগ্রী শীতলতা বাড়াচ্ছে ছাদকৃষি। বছরে দুই মৌসুমে ছাদকৃষি থেকে গড়ে ১০২ কেজি এবং আঙ্গিনা কৃষি থেকে ১৭১ কেজি বিষমুক্ত শাকসবজি উৎপাদন করে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা নিশ্চিত করছে নগরবাসী। ছাদকৃষি কার্যক্রম বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবেলাসহ পরিবেশ থেকে ক্ষতিকর কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে স্বাস্থ্যকর নগরজীবন গড়তে সহযোগিতা করছে। প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের আয়োজনে সোমবার সকালে নগরী একটি পার্ক মিলনায়তনে ‘রংপুর নগরীতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিযোজন ও নগরবাসীর পুষ্টি উন্নয়নে নগর কৃষি সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্প সমাপনী কর্মশালায় এ তথ্য জানান, প্রশিকার টিম লিডার সুমনা রানী দাস।
১৭ মাস মেয়াদী এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত ১’শ জন ছাদ ও মাটির বাগানীর মাধ্যমে কৃষি সম্প্রসারণ হওয়ায় নগরে সবুজের পরিমান বৃদ্ধি, উদ্যানতাত্ত্বিক ফসল সম্প্রসারণে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, উপকরভোগীদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সঠিক ফসল ও উপকরণ নির্বাচন, পানির অপচয় রোধ, আইপিএম ইত্যাদি পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তির চর্চা, নিরাপদ ও সতেজ শাক-সবজি ও ফলমূলের সরবরাহ বৃদ্ধি করেছে। এছাড়া স্কুল পর্যায়ে দুটি ছাদবাগানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ছোট বয়স থেকেই কৃষি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হয়েছে।
প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক একেএম হাসান সাঈদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন, এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শফিকুল বারী। বক্তব্য রাখেন, রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দূযোর্গ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. এআরএম তৌফিকুল ইসলাম, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচীর প্রতিনিধি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, রংপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম, রংপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী আশরাফী, লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ এনামুল হাসান, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলাম, প্রশিক্ষা কর্মকর্তা যুগেশ চন্দ্র বর্মনসহ অন্যরা। অস্ট্রেলিয়ান এইডের অর্থায়নে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচীর স্মল গ্রান্ট প্রোগ্রামের আওতায় আয়োজিত কর্মশালায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, আবহাওয়াবিদ, কৃষিবিদ, গাছের চারা ও জৈব সার উৎপাদনকারী, ছাদ বাগানী ও গণমাধ্যম কর্মীরা অংশ নেন।