


জমি-জমা সংক্রান্ত ও পরকীয়া অভিযোগে পার্বতীপুর উপজেলার পল্লীতে রাতভর পাশবিক নির্যাতনে মাফিজুল ইসলাম (৫০) নামে কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে, বুধবার দিবাগত রাত ১টায় পার্বতীপুর উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের খাগড়াবন্দ কোটালীপাড়া গ্রামের রইচ উদ্দীন বকুল মিয়ার বাড়ীতে।
খবর পেয়ে পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের একদল পুলিশ দিবাগত রাত আড়াইটায় খাগড়াবন্দ কোটালীপাড়া বকুল মিয়ার বাড়ী থেকে মাফিজুল ইসলামকে উদ্ধার করে। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেয়ার পথে রাত ৩টার দিকে মাহফিজুল ইসলাম মারা যায়। এঘটনায় পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের (আইসি) উজ্জল মিত্রের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে হরিরামপুর ইউনিয়নের খাগড়াবন্দ কোটালীপাড়া গ্রামের স্বামী রইচ উদ্দীন বকুল মিয়া (৪৫) স্ত্রী ফেন্সি আরা বেগম (৪৩) তার ভাইপো রাসেল ইসলাম (২৫) ও তাজুল ইসলামকে আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পার্বতীপুর মডেল থানায় কোন মামলা হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় পুলিশ নিহতের মরদহে উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহত কৃষক মাফিজুল ইসলাম এর স্ত্রী সঞ্জু আরা বেগম (৪০) জানান, আমার স্বামীকে বকুল মিয়া তার বাড়ীতে নিয়ে খাটে হাত-পা বেধে পেটাচ্ছে। আর বলছে তুই আমার স্ত্রীর জমিত কেন গেছিস আর বলছে আর মারছে। ওই রাতে কোন পরকীয়ার বিষয় নয় বলে তিনি দাবী করেন। আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই।
মধ্যপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের (আইসি) উজ্জল মিত্র জানান, ৪/৫ মাস আগে ২০ শতক জমি নিয়ে থানায় অভিযোগ করেন দুলাভাই রইচ উদ্দীন বুকুল ও শালী ফেন্সি আরা। পরে, উভয়পক্ষকে ডেকে সমোঝতা করে দেয়া হয়। কিন্তু অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মাহফিজুল ইসলাম দাবী করেন আমি ২০ শতক জমি তার শালীকে লিখে দেয়নি। কিন্তু তারা বলছে লিখে দিচ্ছে, এটা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিরোধ চলে আসছে। লোকমুখে শুনছি যে, শালীর বাড়ীতে আসা-যাওয়া করতো দুলাভাই মাহফিজুল ইসলাম।
স্থানীয় জানান, ইতিপূর্বেও মহিলার সাথে তার অনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ে বিচার-সালিশ হয়। ওই মহিলার স্বামী চাকুরীর সুবাদে বাহিরে থাকায় না বাড়ীতে আসতো। বুধবার রাতে মহিলার কাছে আসলে হাতনাতে ধরে ফেলে পরিবারের লোকজন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে দুলাভাই বকুল মিয়া তার নিজ বাড়ীতে মাহফিজুল ইসলামকে মারধর করছেন।
এব্যাপারে পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের (আইসি) উজ্জল মিত্র জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ এখনও কেউ থানায় আসেনি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।