


রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ০৩নং কুর্শা ইউনিয়নের পূর্ব চান্দঘাট মিয়াপাড়া রহমানিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে নির্যাতন, নিয়োগ বাণিজ্য, মাদ্রাসার দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা সহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় অভিভাবক ও এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম নিজেকে ভুয়া ভোটার তালিকাভুক্ত করে মাদ্রাসার সভাপতি বাবর আলীর সহযোগিতায় ম্যানেজিং কমিটি গঠনের পায়তারা করছেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও সরকারি অনুদান সঠিকভাবে ব্যবহার না করে আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি এক ছাত্রীকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের ঘটনা। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ওই ঘটনা এরপর মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক দীর্ঘ নয় থেকে দশ মাস অনুপস্থিত ছিলেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচারের দাবিতে এগিয়ে এসেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিয়মিত দেওয়া হলেও প্রধান শিক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করেন এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অভিযোগকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়ম চললেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা না নিলে মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। প্রধান শিক্ষকের কারণে নারী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন “এ বিষয়ে আর যেনো ফোন না দেওয়া হয়।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিদুল হক বলেন, প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছাত্রী শ্লীলতাহানির অভিযোগটি তদন্তের জন্য কাউনিয়া থানার ওসিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে ম্যানেজিং কমিটির বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানটির কমিটি অনুমোদন করা হবে না।