1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
উত্তরের হাড়কাঁপানো শীতে বাড়ছে রোগ, বেশি আক্রান্ত শিশুরা | দৈনিক সকালের বাণী
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন

উত্তরের হাড়কাঁপানো শীতে বাড়ছে রোগ, বেশি আক্রান্ত শিশুরা

নিউজ ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৬৪ জন দেখেছেন

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধরে ছিল না সূর্যের দেখা, বেড়েছে ঠান্ডা। হাড়কাঁপানো শীত, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত জনজীবন। এখন সূর্যের দেখা মিললেও তাপমাত্রায় কম থাকায় ঠান্ডাজনিত রোগ বাড়ছে শিশু ও বৃদ্ধদের। এর মধ্যে ভাইরাস সংক্রমিত সাধারণ সর্দিতে আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি। সেইসঙ্গে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমাসহ কয়েকটি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

এদিকে ঢাকার পাশাপাশি সারাদেশে শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে অভিভাবকদের ভিড় বেড়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও শ্বাসতন্ত্রের নানা ধরনের সংক্রমণসহ ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। গত কয়েক দিনে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যাও দুই থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যা বেশি।

ঠান্ডায় বেশি ভুক্তভোগী শিশুরা
ঠান্ডায় সবচেয়ে ভুক্তভোগী হচ্ছে শিশুরা। চিকিৎসকদের মতে, তীব্র শীতের কারণে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং রোটা ভাইরাস সক্রিয় হয়ে ওঠে। মূলত, দূষিত পানি ও বাসি খাবারের মাধ্যমে এই রোগ দ্রুত ছড়াচ্ছে। প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে শিশুরাই শীতকালীন রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও অ্যালার্জিজনিত জটিলতা শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে।

ঠান্ডাজনিত রোগী বেড়েছে কয়েক গুণ 
ঢাকাসহ সারাদেশের শিশু রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল অ্যান্ড ইনস্টিটিউটে। এই হাসপাতালে পাওয়া যায় শিশুদের বিশেষায়িত চিকিৎসা। হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৩১ ডিসেম্বর নিউমোনিয়া নিয়ে ভর্তি হয়েছেন পাঁচজন, চিকিৎসা নিয়েছেন ২৩ জন শিশু। ঠান্ডায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৯৮ জন শিশু, হাঁপানি বা অ্যাজমার চিকিৎসা নিয়েছেন ১৩ জন শিশু, ডায়রিয়া নিয়ে ২৭ শিশু সেবা নিয়েছেন। এছাড়া ডিসেম্বর মাসে নিউমোনিয়ায় আক্রা হয়ে সেবা নিয়েছেন ৩২১ জন শিশু, ডায়রিয়ায় সেবা নিয়েছেন ৮৯ জন শিশু। হাসপাতালটির তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে ঠান্ডাজনিত রোগী বেড়েছে কয়েকগুন। হাসপাতালে আসা অধিকাংশ রোগী ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, গত ১ নভেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ৭৯ হাজার ৪২৯ জন ঠান্ডাজনিত রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ভর্তি রোগীর মধ্যে ৫৫ হাজার ৬৮৩ জন ডায়রিয়ার এবং শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের রোগী ২৩ হাজার ৭৪৬ জন।

 

অধিদফতরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশের ছয়টি জেলায় ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বেশি। জেলাগুলো হলো নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট ও চাঁদপুর। শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বেশি দেখা দিয়েছে নরসিংদী জেলায়। এই জেলায় হাসপাতালে ভর্তি রোগী চার হাজার ১৩৯ জন। এরপর চট্টগ্রামে এক হাজার ২৯৩ জন, কক্সবাজারে এক হাজার ১৩৯ জন, সিলেটে এক হাজার ১৩৪ জন এবং চাঁদপুরে ৭৫৭ জন।

ডায়রিয়া বেশি দেখা দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। এই জেলায় রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে চার হাজার ৬৫৭ জন। এরপর চট্টগ্রামে তিন হাজার ৮৬০ জন, কক্সবাজারে তিন হাজার ২৮২ জন, নরসিংদীতে দুই হাজার ৩৩৯ জন এবং সিলেটে দুই হাজার ২০৪ জন।

এছাড়া উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো ঠান্ডাজনিত রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। কয়েকটি জেলাতে হাসপাতালে রোগী বেড়েছে কয়েকগুণ। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু, মেডিসিন ও বার্ন ইউনিটে বেডের তুলনায় দুই-তিনগুণ বেশি রোগী হওয়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা। ওয়ার্ডগুলোর ধারণ ক্ষমতার চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। হাসপাতালটিতে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে গত তিন দিনে প্রায় দেড় হাজার রোগী ভর্তি হয়েছেন। এমন অবস্থা জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতেও।

উত্তরের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা.একেএম শাহাব উদ্দীন বলেন, গত ২ মাসে সংক্রমণের হার উদ্বেগজনক। জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাড়ে তিন হাজারের ওপরে। পর্যাপ্ত স্যালাইন এবং ওষুধের মজুদ রয়েছে। তবে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

যা করণীয় 

শীতজনিত রোগে করণীয় বিষয়ে ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, মানুষ শীত মৌসুমে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা। তাই প্রয়োজন না হলে বাইরে না যাওয়াই ভালো। বাইরে যেতেই হলে অবশ্যই গরম কাপড় পরতে হবে। শিশুদের কুসুম গরম পানি পান করানো উচিত। একইভাবে গর্ভবতী নারীদের জন্য শীতকালীন সুরক্ষা আরও জরুরি। কারণ এই সময় তাদের শীতজনিত জটিলতার ঝুঁকি বেশি থাকে। যাদের আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস বা শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য রোগ রয়েছে, তাদের বাড়তি সতর্কতা জরুরি। নিজের ইচ্ছায় কোনো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়।

শীতের তাপমাত্রা পরিবর্তনের ফলে প্রকৃতিতে বিদ্যমান কিছু ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে সর্দিকাশি, ঠান্ডাজনিত জ্বর ও নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কাইটিসের মতো রোগ দেখা দেয়। শিশুদের পেটের অসুখ ও ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ার প্রবণতাও বেড়ে যায়।

জানতে চাইলে শিশু বিশেষজ্ঞ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুদের নিউমোনিয়া থেকে নিরাপদ রাখতে মায়েদের একটু বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে শীতকালে নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেড়ে যায়। তাই শীতকালে মায়েদের নিজ নিজ বাচ্চার দিকে বাড়তি নজর দিতে হবে। সহজে যেন তারা ঠাণ্ডায় আক্রান্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। হাত-পায়ে মোজা পরাতে হবে। আবার ঘামে কি না, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।’

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। রোগের মাত্রা বেশি হলে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। ঠান্ডা, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্তদের থেকে শিশুকে নিরাপদ দূরত্বে রাখতে হবে। সঠিক নিয়মে প্রয়োজনমতো হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে। ময়লা হাতের মাধ্যমেও নিউমোনিয়ার জীবাণু ছড়ায়।’

cool_weather_health_desease_ii
চিকিৎসকদের পরামর্শ শীতকালে প্রয়োজন না হলে বাইরে না যাওয়াই ভালো। ছবি: সংগৃহীত

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সাহাবুল ইসলাম বলেন, শীতে সবচেয়ে বেশি যে রোগ হয় তা হলো সর্দি-কাশি, কমন কোল্ড বা ঠান্ডাজ্বর। সাধারণত ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং প্যারা ইনফ্লুয়েঞ্জার মাধ্যমে এ রোগ হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস, লালা, কাশি বা হাঁচি থেকে নিঃসরিত ভাইরাসের মাধ্যমে সর্দি-কাশির সংক্রমণ হয়। এর ফলে রোগীর জ্বর, গলাব্যথা, ঢোঁক গিলতে অসুবিধা, নাক বন্ধ, নাক দিয়ে অনবরত সর্দি নিঃসৃত হওয়া, খুসখুসে কাশির সঙ্গে গলা, মাথা ও বুকে-পেটে ব্যথাও অনুভূত হয়। কোনো কোনো সময় খাবারে অরুচি, পাতলা পায়খানা হতে পারে। এ রোগে আক্রান্ত হলে বিশ্রাম, প্রচুর পানীয়, ফলের রস ও পানীয় গ্রহণ করতে হবে। খুব বেশি জ্বর, গলাব্যথা, কাশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ গ্রহণ করতে পারেন।

ডা. সাহাবুল ইসলাম বলেন, শীতকালে অ্যাজমা বা হাঁপানির প্রকোপ খানিকটা বেড়ে যায়। যেকোনো বয়সের নারী-পুরুষ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। পরিবেশদূষণ, শিল্পবর্জ্য থেকে উৎপন্ন ধুলাবালি, খাবার, ওষুধ-অ্যাজমা বা হাঁপানির মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাস্ক পরে চলাচল করতে হবে। যেসব খাবার, ওষুধ, ধুলাবালিতে পরিবেশগত অ্যালার্জেন আছে, সেগুলো থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। খুব বেশি জ্বর, গলাব্যথা, কাশি বা শ্বাসকষ্ট থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ গ্রহণ করতে পারেন।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল হানিফ বলেন, নিউমোনিয়াসহ অন্য রোগেরও ভ্যাকসিন নিতে হবে। বিশেষ করে ৫ বছরের নিচে বা ৬৫ বছরের ওপরে বয়সীদের অথবা যাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম। সাধারণ ঠান্ডা লাগলেও খেয়াল রাখতে হবে যেন এটি খারাপ দিকে না যায়। স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে, পরিমিত বিশ্রাম নিতে হবে, নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে। শিশু জন্মের পর ইপিআই শিডিউলের ভ্যাকসিনগুলো নিশ্চিত করতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )