


রংপুর মহানগরীতে ৭ মাস বয়সী শিশু সন্তানকে নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার পর চার দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন এক গৃহবধূ। নিখোঁজ ওই নারীর নাম সুমাইয়া আক্তার বন্যা (২১)। সঙ্গে রয়েছে তার ৭ মাস বয়সী ছেলে শিশু সাফোয়ান। এ ঘটনায় পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাদের সন্ধান না পেয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। জানা গেছে, রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানাধীন ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সাতমাথার পূর্ব খাসবাগ এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম ও নুর নাহারের ছেলে নয়ন মিয়ার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বন্যা গত ৯ মে সকালে শিশু ছেলে সাফোয়ানকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাসা থেকে বের হন। এরপর থেকে মা ও সন্তানের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
স্বামী নয়ন মিয়া জানান, ঘটনার দিন সকালে তিনি কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় তার স্ত্রী ফোন করে জানান, ছেলে সাফোয়ানের জ্বর এসেছে এবং তাকে ডাক্তার দেখাতে হবে। তিনি বাসায় ফিরে একসঙ্গে যাওয়ার কথা বললেও পরে জানতে পারেন, বন্যা তার মাকে বলে শিশুকে নিয়ে সাতমাথা এলাকায় ডাক্তার দেখাতে গেছেন। এরপর থেকেই তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজের পর স্বজনরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ চালান। কোথাও কোনো সন্ধান না পেয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নয়ন মিয়া। এ বিষয়ে নয়ন মিয়া বলেন,আমার স্ত্রী ও সন্তান কোথায় আছে কিছুই জানি না। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে আমার ছোট শিশুটার জন্য।
ও কেমন আছে সেটাই ভাবছি। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, আমার সন্তান ও স্ত্রীকে দ্রুত খুঁজে বের করতে সাহায্য করুন।বন্যার বাবা গনি মিয়া বলেন, তিন বছর আগে নয়ন মিয়ার সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। তাদের সংসার স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। হঠাৎ মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ পেয়ে তিনি পরিবারসহ রংপুরে এসে অবস্থান করছেন।তিনি বলেন,আমরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করছি। কিন্তু এখনো কোনো তথ্য পাইনি। নাতিটাকে নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।বন্যার ভগ্নীপতি আশরাফুল ইসলাম জানান, পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো হদিস মেলেনি।এ বিষয়ে কোতোয়ালি মেট্রোপলিটন থানার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ চলছে।