


রংপুরের কাউনিয়ায় ছোট শ্যালকের স্ত্রীকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগের মামলায় ননদের স্বামীকে গ্রেফতার করেছে হারাগাছ থানা পুলিশ। শনিবার দিনগত রাতে ওই যুবককে নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরআগে শনিবার রাতে ভুক্তভোগী নারী নন্দিয়ার স্বামীর বিরুদ্ধে রংপুর মেট্টোপলিটন হারাগাছ থানায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতার ননদের স্বামীর নাম মো. সজল মিয়া (৩২) গতকাল রবিবার তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রংপুর আদালতে পাঠানো হয়। অভিযুক্ত সজল মিয়া, উপজেলার হারাগাছ পৌর শহরের পাঠানটারী এলাকার মৃত মাহফুজার রহমানের ছেলে।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, ০৫ মে মঙ্গলবার সন্ধার দিকে কেউ না থাকায় সজল মিয়া বাড়ীতে ঢুকে ওই নারীকে ধর্ষন চেষ্টা করেন। ওই নারীর অভিযোগ, তার স্বামী ঢাকায় একটি কারখানায় চাকুরী করেন। তিনি তিন সন্তান ও শ্বাশুরীকে নিয়ে স্বামীর বাড়ীতে বসবাস করেন। ঘটনার দিন তার শ্বাশুরী পাঠানটারী এলাকায় মেয়ের বাড়ীতে অবস্থান করছিল। আর এই সুযোগে সন্ধার কিছু আগে ননদের স্বামী সজল তার বাড়ীতে আসে। এ সময় বাড়ীতে কেউ না থাকায় পিছন দিকে থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে এবং জোর পুর্বক পরনের কাপড় খূলে ধর্ষণের চেষ্টা করে সজল। তার চিৎকারে দশ বছরের বড় মেয়ে বাড়ীর ভিতরে পৌছে ঘটনা দেখে মায়ের ইজ্জত বাঁচাতে চিৎকার শুরু করলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় সজল।
ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, বছর খানেক আগেও তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলো সজল। ঘটনা স্বামীর পরিবারকে জানলে সজল আর এমন জঘন্য কাজ করবে না বলে লোকজন বিষয়টি মিমাংশা করে দেয়। কিন্তু আবারও তাকে এমন ঘটনার শিকার হতে হলো। ঘটনার পর থেকে স্বামীর বাড়ীতে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় তিনি সন্তানদের নিয়ে পিতার বাড়ীতে অবস্থান করেছেন। তিনি সজলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। প্রতিবেশী লোকজন জানান, অভিযুক্ত যুবকের চরিত্র তেমন ভালো নয়। এর আগেও নাকি এমন জঘন্য কাজ করেছিল। সেদিন ঘটনার সময় যদি ছোট মেয়েটি বাড়ীতে না প্রবেশ করলে ওই নারীর ইজ্জতের ক্ষতি হয়ে যেত। ছোট মেয়েটি মায়ের ইজ্জত বাঁচিয়েছে। আর যাকে কোন নারীর এমন ক্ষতি করতে না পারে অভিযুক্তের দৃষ্ঠান্তমুলক বিচার চান তারা।
জানতে চাইলে রংপুর মেট্টোপলিটন হারাগাছ থানার মামলার তদন্তকারী এসআই জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের চেষ্ঠা ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে শনিবার দিনগত গভীর রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রংপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।