


রংপুরের পীরগঞ্জে করতোয়া নদীর চর থেকে চাষিরা আগেভাগেই পেতে শুরু করেছে নতুন নতুন ফসল। কৃষকরা স্বপ্ন নিয়ে নদীর বুকে বীজ ছিটিয়ে দেয় আর নদী চাষিরদের গোলা বা পকেট ভরিয়ে দেয়। মৌসুমের ফসল যেন বড় নদীর এক বিশেষ উপহার! উপজেলার চতরা,বড় আলমপুর, টুকুরিয়া ইউনিয়ন দিয়ে বয়ে গেছে খরস্রোতা করতোয়া নদী।
দৃষ্টি সীমা পেরিয়ে শত-শত একর বালু চরে এখন চাষাবাদে ভরপুর, সবুজের সমারোহ। ধান পাট,মিষ্টি আলু, ভুট্টা, কাচা মরিচ, সু-স্বাদু মিষ্টি কুমড়াসহ সকল সবজির দখলে করতোয়ার বালুচর। নদীর পানি কমে গেলেই চাষিরা আগাম জাতের ফসলের পাশাপাশি কয়েক জাতের মিষ্টি আলুর চাষ করে। ফলন ও বাজার ভালো পেয়ে চাষিদের মধ্যে চাষাবাদের আগ্রহ কয়েকগুন বাড়িয়ে দেয়।
এলাকার মিষ্টি আলু চাষিরা বলছেন, নদীর তলার পানি ছাড়া সব জায়গায় ফসল চাষ করা হচ্ছে। এলাকায় মিষ্টি আলু বা (সাইবেন আলু) এই এলাকায় অনেক জনপ্রিয় এবং অনেকেই মিষ্টি আলুর চাষ করে থাকেন। এখন থেকে বিভিন্ন হাটবাজারে সয়লাব হয়ে যায় চরের মিষ্টি আলু। বিগত বছর গুলোতে কিছুটা হতাশ থাকলেও এ মৌসুমে হতাশা কাটিয়ে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে চাষাবাদে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা।
চতরা ইউনিয়নের কুয়াতপুর হামিদপুর মিষ্টি আলু চাষিরা মাহতাব আলী জানান, চরাঞ্চলের বালু মাটিতে বন্যার গড়ানি এসে বালুচরের উর্বরতাকে বাড়িয়ে দেয়। আমরা ইচ্ছেমতো সবধরনের সফলের চাষ করি। আর এই বালুচর কোন চাষি কে খালি হাতে ফিরে দেয় না। জমি বর্গা নিয়ে সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে আমি মিষ্টি আলুর চাষ করে দুই সপ্তাহ আগে থেকে বিক্রি করেছি। ব্যবসায়ীরা বালু চর থেকে ৮’শ টাকা মন হিসাবে কিনছে।
একই জমিতে ২ বার মিষ্টি আলুর চাষ করা হয়। আরেক চাষি ঘাষিপুর গ্রামের মনটু মিয়া বলেন, বালুচর আমাদের এখন অর্থের ভান্ডার। আমরা বালুর নিচে যে কোনো ফসলের বীজ বপন করি,সেই ফসলই বালুর নিচ থেকে হাসি মুখে বেড়ে উঠছে। একসময় এ বালুচরে কোনো আবাদ হতো না। এখন আমরা সকল ফসলের চাষাবাদ করছি। এ উপজেলায় ১৫ ইউনিয়নে ১২৫ হেক্টর জমিতে কোকি-১৪,বারি-৭, ৯, ১২ সহ কয়েকটি জাতের মিষ্টি আলু চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। ইতিমধ্যেই আগাম জাতের মিষ্টি আলু উঠাতে শুরু করেছে চাষিরা। বাজারে মিষ্টি আলুর প্রচুর চাহিদা রয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানায়।