


ডাক বিভাগের সংশি¬ষ্ট কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিন থেকে দায় এড়ানো আশ্বাস ও কথাবার্তায় দিনদিন আবর্জনায় ঢেকে যাচ্ছে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ৩ নং সিংড়া ইউনিয়নে অবস্থিত হাটশ্যামগঞ্জ ডাকঘর। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও দুর্গন্ধে নাকাল হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়রা বলছেন, বারবার অভিযোগ করেও কোনো এক অজানা কারণে মিলছেনা এর কার্যকর সমাধান। ডাকঘরের সামনে ও পেছনে দীর্ঘদিন ধরে গৃহস্থালি বর্জ্য, পলিথিন, প¬াস্টিক ও পোড়া আবর্জনা ফেলার কারণে পুরো এলাকা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিণত হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটি দিনদিন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, একতলা পাকা ভবনটির চারপাশে ছড়িয়ে আছে বিপুল পরিমাণ ময়লা। ভবনের পেছনে পোড়া বর্জ্যের কালো ছাই, সামনে পলিথিন ও প¬াস্টিকের স্তুপ জমে আছে। দুর্গন্ধে ভরে থাকে আশপাশের পরিবেশ। ভবনের চারদিকে কুকুরের বিচরণও লক্ষ্য করা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে পথচারী, বয়স্ক ও শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
স্থানীয়রা জানান, ইতিপূর্বে একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে সংশি¬ষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসন বরাবর অভিযোগ ও পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সচেতন মহলের অভিযোগ, সরকারি স্থাপনা হওয়ায় দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের তেমন আগ্রহ নেই। তাঁদের ভাষ্য, মাস শেষে বেতন নিলেই দায়িত্ব শেষ— এমন মনোভাব থাকলে সেবার মান কীভাবে উন্নত হবে? ডাকঘরটি স্থানীয়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা কেন্দ্র। কিন্তু পরিবেশের এমন বেহাল দশা সেবাগ্রহীতাদের জন্য বিব্রতকর ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সচেতনমহল জানান, দীর্ঘদিন ধরেই চলছে এমন অবস্থা। সংশি¬ষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান কোনোভাবেই এর দায়ভার এড়াতে পারেন না। এলাকাবাসী মনে করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ডাকঘরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন।
বিষয়টি নিয়ে ৩ নং সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ডাকঘরের চারপাশে এভাবে ময়লা জমে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি নিয়ে ডাকবিভাগের সংশি¬ষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা হয়েছে। দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা ও নিয়মিত অপসারণ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ডাক বিভাগ দিনাজপুরের ডিপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল রশিদুল হাসানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, হাটশামগঞ্জ ডাকঘরের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ার বিষয়টি আমরা অবগত। ইতিমধ্যে পরিদর্শনও করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে ইতিমধ্যে অবগত এবং দ্রুত কার্যকর সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভবনটির চারপাশ পরিষ্কার সহ মাটি ভরাট করে বাউন্ডারি ওয়াল দেওয়ার ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে দ্রুত । যাতে সরকারি সম্পদ নিরাপদ থাকে। পাশাপাশি তিনি উলে¬খ করেন, সরকারি স্থাপনার সুরক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় স্থানীয় জনগণেরও দায়িত্ব রয়েছে।