


কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের শারীরিক প্রতিবন্ধী নুর আলম দয়াল চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার দুই কিডনিতেই জটিলতা রয়েছে এবং অস্ত্রোপচার ছাড়া সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা নেই এদিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে তিনি সমাজের বিত্তবান ও দানশীল মানুষের কাছে বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন। বর্তমানে তার চিকিৎসার জন্য নিয়মিত ডায়ালাইসিসসহ ব্যয়বহুল চিকিৎসা প্রয়োজন।
কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সংসারের নিত্যদিনের খরচ চালাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে এমন ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া দয়ালের পরিবারের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দয়ালের মা জানায়, বুঝতেই পারেননি কখন যে আমার প্রতিবন্ধী ছেলের মরণব্যাধি তার শরীরে বাসা বেঁধেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার কিডনির সমস্যা ধরা পড়ে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, তার কিডনিতে গুরুতর সংক্রমণ হয়েছে এবং দ্রুত অপারেশন প্রয়োজন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পরামর্শে বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদিকে, স্থানীয়রা জানান দয়ালের জীবন কাহিনীও অত্যন্ত করুণ। পিতৃহীন অবস্থায় দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়ে নানা বাড়িতে বেড়ে ওঠেন তিনি। বর্তমানে বৃদ্ধা মাকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রতিবন্ধী ভাতা, একটুকরো সরকারি জমিতে নির্মিত ঘর এবং অনুদানে পাওয়া একটি ছোট দোকানই তার একমাত্র সম্বল।
রাজমিস্ত্রির কাজ করে কোনোমতে সংসার চালালেও অসুস্থতার কারণে এখন সেটিও বন্ধ রয়েছে তারা আরোও জানান, দয়াল সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেন। নিজের কষ্ট ভুলে অন্যের দুঃখ লাঘবে এগিয়ে আসতেন। আজ সেই মানুষটিই অসহায় হয়ে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের দ্বারস্থ হয়েছেন। বর্তমানে বাঁচার আশায় দয়াল সমাজের দানশীল ব্যক্তি, প্রবাসী ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে সহায়তার আকুতি জানিয়েছেন। সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেলে তার জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দয়ালের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তার পরিবার ও স্থানীয়রা। যোগাযোগ ও সহায়তা পাঠাতে: ০১৭১০-৪৩২০০২ (বিকাশ/নগদ)।