


আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় থাইল্যান্ডের উদ্দেশে উড়াল দেবে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল। সেখানে কয়েকদিন অনুশীলন ও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পর ২১ মে তারা পৌঁছবেন ভারতে। আর চারদিন পরই শুরু হবে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ।
টানা তিনবার শিরোপা জয়ের সুবর্ণ সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে আছে লাল-সবুজের মেয়েরা। কিন্তু এত বড় অর্জনের সম্ভাবনার মুহূর্তেও সরকারি পর্যায় থেকে কোনো শুভকামনা বা বিদায়ী আয়োজন নেই। ২০২২ ও ২০২৪ সালে যে মেয়েরা দেশকে আনন্দে ভাসিয়েছিল, তারাই এবার নিভৃতেই দেশ ছাড়ছেন। বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক নিজে একসময়ের সাফজয়ী ফুটবলার। ২০০৩ সালে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ছেলেদের দল সাফ জিতেছিল। এবার তার দায়িত্বকালেই নারী দল সাফ খেলতে যাচ্ছে।
তবে তিনি দলের সঙ্গে দেখা করবেন কি না- তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি বাফুফের নারী বিভাগের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ। তবে কিরণ মনে করেন, এতে দলের পারফরম্যান্সে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বরং চাপ কম থাকলে মেয়েরা আরও ভালো খেলবে। অধিনায়ক আফঈদা খাতুনও একই কথা বলছেন। মাঠের বাইরের সবকিছু পাশে সরিয়ে রেখে শুধু খেলায় মনোযোগ দিতে চান তিনি। আফঈদা বলেন, ‘গতবার নেপালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এবার ভারতে খেলা। স্বাগতিক ভারত অবশ্যই নিজেদের মাঠে শিরোপা জিততে চাইবে। তারা আমাদের তৃতীয় শিরোপা জয়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। আমরা সেই চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রতিপক্ষ বা ভেন্যু নিয়ে না ভেবে নিজেদের সেরাটা দিতে চাই।’
এবারের আসরে চ্যালেঞ্জ আরও বেড়েছে। গত সাত আসরে ভারত পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বাংলাদেশ সর্বশেষ দুটি শিরোপা জিতেছে নেপালের মাটিতে। এবার ভারতের গোয়ায় টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে ২৫ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত। তবে দল মোটেও চিন্তিত নয়। এএফসি এশিয়ান কাপের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা নতুন করে প্রস্তুতি নিয়েছে। গত ১০ দিন চট্টগ্রামের ইপিজেডে ক্যাম্প করেছে দল। থাইল্যান্ডে গিয়ে আরও উন্নত অনুশীলনের পাশাপাশি ১২ ও ১৭ মে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা। কোচ পিটার বাটলার বলেন, ‘এএফসি খেলে অভিজ্ঞতা হয়েছে। সাফ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে যাচ্ছি। তবু শিরোপা জয় সহজ হবে না। প্রতিবারই অন্য দলগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আমরা ভালো প্রস্তুতি নিচ্ছি, যা মাঠে কাজে দেবে।’
সাম্প্রতিক সময়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই মিডফিল্ডার স্বপ্না রানী ও মুনকি আক্তারকে রাখা হয়নি চূড়ান্ত স্কোয়াডে। দলের প্রধান কোচের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সন্তোষজনক না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাফুফে ভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কোচ স্পষ্টভাবে বলেন, ‘পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই দল নির্বাচন করা হয়েছে এবং যারা সুযোগ পায়নি, তাদের ভবিষ্যতে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ রয়েছে।’ শুধু এই দুই খেলোয়াড়ই নয়, গত আসরের তুলনায় এবারের দলে নেই আরও বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ফুটবলার। বাদ পড়া তালিকায় রয়েছেন সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী সরকার, সানজিদা আক্তার, মাতসুশিমা সুমাইয়া, মাসুরা পারভীন, নিলুফার ইয়াসমিন, আইরিন খাতুন ও গোলকিপার ইয়ারজান বেগম। ইনজুরির কারণে দল থেকে ছিটকে গেছেন নবীরন খাতুন। সব মিলিয়ে আগের স্কোয়াড থেকে প্রায় ১০ জন খেলোয়াড় এবার নেই, যা দলকে একেবারেই নতুন রূপ দিয়েছে।
২৩ সদস্যের দলে রয়েছে তরুণ প্রতিভা ও অভিজ্ঞ ফুটবলারদের মিশ্রণ। সবাই মিলে একসঙ্গে লড়াই করে তৃতীয় শিরোপা ঘরে তুলতে চায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ দল: রূপনা চাকমা, মিলি আক্তার, স্বর্ণা রানী মন্ডল, হালিমা আক্তার, শিউলি আজিম, আফঈদা খন্দকার (অধিনায়ক), সুরমা জান্নাত, কোহাতি কিস্কু, সুরভী আক্তার আরফিন, শামসুন্নাহার (সিনিয়র), উন্নতি খাতুন, অর্পিতা বিশ্বাস, মোমিতা খাতুন, মারিয়া মান্ডা, মনিকা চাকমা, সাহিদা আক্তার রিপা, ঋতুপর্ণা চাকমা, উমেহলা মারমা, মোসাম্মত সাগরিকা, তহুরা খাতুন, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, সুরভী আখন্দ প্রীতি, শামসুন্নাহার (জুনিয়র)।