
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় মনিরাম দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ব্যবহার করতে না দেয়া ও প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলন দমানোর চেষ্টা, আন্দোলন কারীদের নামে মানহানিকর ফেসবুক পোস্ট, মামলা-হামলা ও হুমকি-ধামকার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বিকেল ৪টায় মনিরাম এলাকায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির আয়োজন করে স্থানীয় শিক্ষার্থী, যুবসমাজ ও সচেতন নাগরিকরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে দীর্ঘদিন ধরে খেলাধুলা করতে না দেওয়াকে ঘিরে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থী, এলাকার যুবসমাজ ও সচেতন নাগরিক । এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ মে ২০২৬ তারিখে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে স্মারকলিপি প্রদান করা হয় বলে দাবি করা হয়।
বক্তারা জানান, পরবর্তীতে ১২ মে বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার পর সমন্বয় ও সম্মতির ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের মাঠ শিক্ষার্থী ও সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয় এবং মাঠ সংস্কার শেষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের ঘোষণাও দেয়া হয়।
তবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠ পরিষ্কারের সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীকে “বখাটে” আখ্যা দিয়ে অপমানজনক আচরণ করেন, ছবি ধারণ করেন এবং মিথ্যা মামলার হুমকি দেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের টিসি প্রদানের ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
এছাড়া প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়, যা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে বলে উল্লেখ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জোরালো দাবি করা হয়, কয়েকজন সহকারী শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মানহানিকর পোস্ট দিয়েছেন, যা তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে।
এ অবস্থায় তারা চার দফা দাবি জানান,মানহানিকর পোস্ট অপসারণ, প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা, হয়রানি বন্ধের নিশ্চয়তা এবং নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
অন্যথায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ ও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
Related