বুধবার দুপুর ১২টায় উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল কেডিওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নদের তীর থেকে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত রাইশা মনি কাঁচকোল দক্ষিণ খামার এলাকার রাশেদুল ইসলামের মেয়ে এবং কাঁচকোল বাজার নবীজান নুরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেল ৫টার দিকে কয়েকজন সমবয়সী শিশুর সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদে গোসল করতে যায় রাইশা। একপর্যায়ে নদীর কিনারা থেকে কিছুটা দূরে চলে গেলে স্রোতের টানে পানিতে তলিয়ে যায়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে তার সঙ্গে থাকা শিশুরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। পরে স্থানীয়দের খবর দেওয়া হলে রাতভর খোঁজাখুঁজি চালানো হয়। খবর পেয়ে চিলমারী ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে রংপুর থেকে আসা ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ সময় নদীতে অনুসন্ধান চালায়। তবে শিশুটির কোনো সন্ধান না পাওয়ায় নিখোঁজের পরদিন মঙ্গলবার (৮ জুন) দুপুরে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে ডুবুরি দল ফিরে যায়।
অবশেষে নিখোঁজের প্রায় ৪৪ ঘণ্টা পর বুধবার দুপুর ১২টায় কেডিওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের নদের তীরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে কাছে গিয়ে সেটি রাইশার মরদেহ বলে শনাক্ত করা হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। রাইশার মরদেহ উদ্ধারের খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা ব্রহ্মপুত্র নদের ঝুঁকিপূর্ণ ঘাটগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দলের সঙ্গে উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করেছেন। মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’