


‘পেড্ডি’ বিতর্ক ঘিরে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, সেটি আসলে শুধু একটি ছবিকে কেন্দ্র করে নয়; বরং ভারতীয় মূলধারার সিনেমায় নারী চরিত্রের উপস্থাপনাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের একটি বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে আশা পারেখ ও জয়া বচ্চন যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার মূল বার্তা হলো—অভিনেত্রীর প্রতিভা ও চরিত্রের গভীরতার চেয়ে শরীরী আবেদনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়। বলছেন, ‘অভিনয়ই পরিচয়, শরীর নয়’
‘পেড্ডি’তে জাহ্নবী কাপুর অভিনীত চরিত্রকে ঘিরে অনেক দর্শক অভিযোগ তুলেছেন যে ক্যামেরার ব্যবহার, কিছু সংলাপ এবং কয়েকটি রোম্যান্টিক দৃশ্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে যৌন আবেদননির্ভর ছিল। সমালোচনা এতটাই বাড়ে যে পরিচালক বুচি বাবু সানা প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করেন এবং বিতর্কিত অংশে পরিবর্তন আনার আশ্বাস দেন। আশা পারেখের বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে—তিনি মনে করেন, একজন অভিনেত্রীকে আকর্ষণীয় দেখানোর জন্য শরীর প্রদর্শনই একমাত্র উপায় নয়; শিল্পসম্মত উপস্থাপনাও সম্ভব। অন্যদিকে জয়া বচ্চন বলেছেন, শিল্পীর আত্মসম্মান ও ব্যক্তিগত সীমারেখাকে সম্মান করা জরুরি, এবং কোনো পরিস্থিতি অস্বস্তিকর মনে হলে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া উচিত।
এই বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দায়িত্বের প্রশ্ন। অনেকেই অভিনেত্রীকে দোষারোপ করলেও অভিনেতা জগপতি বাবু মন্তব্য করেছেন যে একজন অভিনেত্রী সাধারণত পরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেন, তাই সমালোচনা হলে সেটি মূলত সৃজনশীল সিদ্ধান্ত ও নির্মাণশৈলীর দিকেই বেশি হওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, ‘পেড্ডি’ বিতর্কটি এখন একটি বৃহত্তর প্রশ্ন সামনে এনেছে—নারী চরিত্র কি গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হবে, নাকি কেবল দর্শক আকর্ষণের উপাদান হিসেবে? দর্শকদের প্রতিক্রিয়া এবং নির্মাতার ক্ষমা প্রার্থনা দেখাচ্ছে যে এই বিষয়টি নিয়ে দর্শক সমাজ আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন ও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।