1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
খালি পেটে ফল খেলে কি ডায়াবেটিস বেড়ে যায়? | দৈনিক সকালের বাণী
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন

খালি পেটে ফল খেলে কি ডায়াবেটিস বেড়ে যায়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
  • ১৩ জন দেখেছেন

সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই দিনের শুরু করেন ফল খেয়ে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এই অভ্যাসকে সাধারণত ইতিবাচকভাবেই দেখা হয়। কারণ ফল ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খাদ্যআঁশের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য একটি প্রশ্ন প্রায়ই উঠে আসে, খালি পেটে ফল খাওয়া কি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শর্করা বাড়ার বিষয়টি পুরোপুরি ফলের ধরন, পরিমাণ এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।

ফলের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে ফ্রুক্টোজ নামের এক ধরনের চিনি থাকে। শরীরে এটি বিপাকক্রিয়ার মাধ্যমে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয় এবং শক্তির জোগান দেয়। তাই খালি পেটে ফল খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা কিছুটা বাড়া স্বাভাবিক।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ফল খাওয়া ক্ষতিকর। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিমিত পরিমাণে সম্পূর্ণ ফল খেলে তা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসেরই অংশ। কারণ ফলের সঙ্গে থাকা খাদ্যআঁশ শর্করা শোষণের গতি ধীর করে দেয়, ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

সব ফল শরীরে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না। কিছু ফলে প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি এবং এগুলোর গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও বেশি। তাই এসব ফল খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজ, অতিরিক্ত পাকা কলা, আনারস ও আঙুর তুলনামূলক দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। অন্যদিকে আপেল, নাশপাতি, কমলা, মাল্টা কিংবা বিভিন্ন ধরনের বেরিজাতীয় ফলে খাদ্যআঁশ বেশি থাকায় এগুলো অপেক্ষাকৃত ধীরে হজম হয় এবং রক্তে শর্করার ওপর তুলনামূলক মৃদু প্রভাব ফেলে।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য শুধু ফল খাওয়ার চেয়ে ফলের সঙ্গে কিছু প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর চর্বি যুক্ত করা উপকারী হতে পারে।
যেমন, এক মুঠো বাদামের সঙ্গে ফল খাওয়া, অথবা টক দইয়ের সঙ্গে ফল মিশিয়ে খেলে শরীরে শর্করা শোষণের গতি ধীর হয়। এতে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং রক্তে গ্লুকোজের ওঠানামাও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

পুষ্টিবিদদের মতে, ফলকে একক খাবার হিসেবে না দেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে বা পারিবারিক ইতিহাসের কারণে ঝুঁকিতে আছেন, তাদের জন্য কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, ফলের রসের বদলে সম্পূর্ণ ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ফলের রসে খাদ্যআঁশ অনেকটাই কমে যায়, ফলে শর্করা দ্রুত রক্তে প্রবেশ করে।
তৃতীয়ত, কম বা মাঝারি গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত ফলকে খাদ্যতালিকায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।

অনেকেই মনে করেন ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থাকলে ফল খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। কারণ ফল শরীরকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খাদ্যআঁশ সরবরাহ করে, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তাই ফল খাওয়ার সময়, পরিমাণ এবং ধরন সম্পর্কে সচেতন থাকাই সবচেয়ে জরুরি। সঠিকভাবে খাদ্যতালিকায় ফল যুক্ত করতে পারলে এটি শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং সুস্বাস্থ্যেরও নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )