গঙ্গাচড়া উপজেলার চর ছালাপাকসহ বিভিন্ন চর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উঠানজুড়ে ভেজা চিনাবাদাম শুকানোর চেষ্টা চলছে। পরিবারসহ কৃষকেরা ভেজা বাদাম আলাদা করা, পচে যাওয়া অংশ ফেলে দেওয়া এবং কিছুটা রক্ষা পাওয়ার আশায় রোদে শুকানোর চেষ্টা করছেন।
তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাদামের খোসা কালচে হওয়া ও পচে গিয়ে গুণগত মান নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল ব্যাহত হয়ে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে তাদের।
স্থানীয় কৃষক আফতাবুর রহমান বলেন, কয়েক মাসের পরিশ্রমে ভালো ফলন হয়েছিল। ধারদেনা করে চাষ করেছি। কিন্তু শেষ সময়ে বৃষ্টি সব শেষ করে দিল। ফলনও কম, দামও কম ।
একই এলাকার কৃষক মজিবর রহমান দুই একর জমিতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ করে চাষ করেছিলেন। তিনি জানান, ভালো ফলন হলে অন্তত ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মতো বিক্রি হতো। কিন্তু এখন লোকসানের আশঙ্কায় আছেন তিনি।
আরেক কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, চরাঞ্চলে চাষাবাদ সবসময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। কখন নদীর ভাঙন, কখন বৃষ্টি—কোনো নিশ্চয়তা নেই। এবার ফলন ভালো হলেও ঘরে তোলা নিয়েই বিপদে পড়েছি।
স্থানীয় কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি একর জমিতে চিনাবাদাম আবাদে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বাজারমূল্য ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারত। তবে অতিবৃষ্টির কারণে অনেক কৃষক ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, চলতি রবি মৌসুমে গঙ্গাচড়ায় প্রায় ৯০ হেক্টর জমিতে চিনাবাদাম আবাদ করা হয় এবং ১৯২ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে সাম্প্রতিক অতি বৃষ্টিতে কিছু এলাকায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হোসেন বলেন, মাঠপর্যায়ে আমরা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছি। কৃষকদের দ্রুত ফসল সংগ্রহ ও সঠিকভাবে শুকানোর বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
চরের কৃষকদের কাছে চিনাবাদাম শুধু ফসল নয়, বরং সারা বছরের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন এবার বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায়, তাদের কপালে এখন দুশ্চিন্তার ভাঁজ লক্ষ্যনীয় ।