


রংপুরের পীরগাছায় কমিশনে ২৫৯ শতক জমির তিনটি দলিল নিবন্ধনে নিয়ম লঙ্ঘন এবং আবেদনে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর পীরগাছা সাব-রেজিস্ট্রার বার্নার্ড মার্ডী ও দলিল লেখক ফরিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, আবেদনে দাতাকে অসুস্থ উল্লেখ করে তাঁর নিজ বাসভবনে গিয়ে দলিল সম্পাদনের কথা বলা হলেও বাস্তবে অন্য একটি স্থানে নিয়ে তিনটি দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে। এতে দাতার কয়েকজন উত্তরাধিকারী পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্র ও দলিলসংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, লাইসেন্স নম্বর ১২০ধারী দলিল লেখক ফরিদুল ইসলাম গত ১৫ জুন কমিশনে দলিল সম্পাদনের জন্য আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের মৃত আছের উদ্দিনের ছেলে রাহেব উদ্দিন অসুস্থ থাকায় তিনি সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দলিল সম্পাদন করতে সক্ষম নন। তাই তাঁর নিজ বাসভবনে গিয়ে কমিশনে দলিল নিবন্ধনের আবেদন করা হয়। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, আবেদনপত্রে উল্লিখিত চণ্ডীপুর গ্রামের বাসভবনে না গিয়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের দুধিয়াবাড়ি এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে কমিশনে দলিল সম্পাদন করা হয়।
অথচ দাতার নিজ বাড়ি থেকে পীরগাছা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার। কমিশনে নিবন্ধিত দলিলগুলোর নম্বর ২৮৭৯, ২৮৮০ ও ২৮৮১/২০২৬। অভিযোগকারী ও বঞ্চিত উত্তরাধিকারী জাহিদুল ইসলাম, জুলফিকার ও রোকসানা বেগমের অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়াটি গোপনে সম্পন্ন করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, দলিল সম্পাদনের বিষয়টি তাঁদের জানানো হয়নি। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তাঁরা বুঝতে পারেন, ২৫৯ শতক জমির তিনটি দলিল নিবন্ধন হয়ে গেছে। এতে তাঁরা পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। তাঁদের জানান, আবেদনে এক ঠিকানার কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে অন্য স্থানে দলিল সম্পাদন হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁরা ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
দলিল লেখক ফরিদুল ইসলামও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘নিয়ম মেনেই দলিল সম্পাদন করা হয়েছে। এখানে টুকিটাকি ত্রুটি থাকতেই পারে। এসব বলে লাভ নেই। আমার কিছুই হবে না।’ তবে আবেদনে চণ্ডীপুর গ্রামের ঠিকানা উল্লেখ থাকার পরও কেন দুধিয়াবাড়ি গ্রামে গিয়ে দলিল সম্পাদন করা হয়েছে, এ বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার বার্নার্ড মার্ডী বলেন, ‘নিয়ম মেনেই দলিল সম্পাদন করা হয়েছে। কাজ করলে ভুলত্রুটি হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, কমিশনে দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আবেদনে উল্লিখিত ঠিকানায় গিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার বা তাঁর প্রতিনিধি কর্তৃক দাতার দলিল সম্পাদনের বিধান রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আবেদনে উল্লিখিত তথ্য, কমিশনে দলিল সম্পাদনের প্রকৃত স্থান এবং পুরো নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে। তাঁরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।