


সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে পারে মিশর। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এমন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। সম্প্রতি পবিত্র মক্কা নগরীতে তিন দেশের মধ্যে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ চুক্তিতে সই করেন। চুক্তি অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর যে কোনো একটির ওপর বহিরাগত আক্রমণ হলে তা সবার ওপর আক্রমণ বলে গণ্য হবে। ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর আদলে এই যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
মিশরের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে যা বললেন এরদোয়ান
আল জাজিরার ‘আল মুকাবালা’ অনুষ্ঠানে এরদোয়ান জানান, মিশরের এই জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ সম্ভব। এই চুক্তি বিশ্বজুড়ে একটি জোরালো বার্তা পাঠিয়েছে। ভবিষ্যতে এই জোটের পরিধি আরও বাড়ানো হবে। আর সেই সম্প্রসারণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মিশরের অংশগ্রহণ অন্যতম বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক সংকট
সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যু নিয়েও কথা বলেন তুর্কি নেতা। হরমুজ প্রণালি ফের সচল করা আঙ্কারার প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, হরমুজ বন্ধ রাখা কারো পক্ষেই কল্যাণকর নয়। এ ছাড়া, অঞ্চলের যুদ্ধ বন্ধে কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করায় কাতারকে ধন্যবাদ জানান এরদোয়ান।
সিরিয়া, গাজা ও লেবানন ইস্যু
তুরস্ক তার প্রতিবেশীদের আঞ্চলিক সংকটের মুখে একা ফেলে দেবে না। বিশেষ করে সিরিয়া, গাজা এবং লেবাননের সংকট নিয়ে এমন মন্তব্য করেন এরদোয়ান।তিনি জানান, সিরিয়ার স্থিতিশীলতা রক্ষায় আঙ্কারা সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। গাজার পক্ষে তুরস্ক প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক তুরস্ক সফরের সময় লেবানন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন তিনি।
এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন
মার্কিন প্রশাসনের কাছ থেকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পেয়েছেন এরদোয়ান। ট্রাম্পের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের পর তিনি এই প্রতিশ্রুতি পূরণের অপেক্ষায় রয়েছেন।
তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ লাভ এখন আর আঙ্কারার প্রধান অগ্রাধিকার নয়। ইইউ তুরস্ককে গ্রহণে প্রস্তুত নয়, আর এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ইউরোপ নিজেই। সূত্র: আল-জাজিরা