1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
ভারতের ভূখণ্ড দাবি নেপালের, কিন্তু কোথায় ২১০ বছরের চুক্তির মূল কপি? | দৈনিক সকালের বাণী
রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ন

ভারতের ভূখণ্ড দাবি নেপালের, কিন্তু কোথায় ২১০ বছরের চুক্তির মূল কপি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫ জন দেখেছেন

ভারত ও নেপালের মধ্যকার সবচেয়ে পুরনো ও সংবেদনশীল সীমান্ত বিরোধের মূলে রয়েছে ২১০ বছরের প্রাচীন ‘সুগৌলি চুক্তি’। তবে এই ঐতিহাসিক ভিত্তিকে কেন্দ্র করেই এবার চরম অস্বস্তিতে পড়েছে কাঠমান্ডু। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত নির্ধারণকারী ১৮১৬ সালের মূল সুগৌলি চুক্তিটি নেপাল সরকারের কাছে আদৌ আছে কিনা, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না দেশটি। নেপালের পার্লামেন্টে খোদ সরকারই এই তথ্য স্বীকার করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি ও লিপুলেখ নিয়ে ভারতের সঙ্গে নেপালের সীমান্ত উত্তেজনা নতুন করে চাড়া দিয়ে উঠেছে। এই তিনটি অঞ্চল নেপালের নিজস্ব ভূখণ্ড- এমন দাবির প্রধান ভিত্তিই হলো সুগৌলি চুক্তি। তবে চুক্তিটির মূল নথি খুঁজে পেতে পার্লামেন্টের উদ্যোগে গঠিত অনুসন্ধানী দল নেপালের জাতীয় আর্কাইভ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও জাদুঘরে তল্লাশি চালিয়েও কোনও আসল কপি উদ্ধার করতে পারেনি।
নেপালের প্রতিনিধি সভার এক বৈঠকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খিনাল জানান, সুগৌলি চুক্তির মূল কপি সরকারের হেফাজতে রয়েছে কিনা সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট তথ্য নেই। কাঠমান্ডু পোস্টের বরাতে জানা যায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্লামেন্টে বলেছেন, আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই যে অফিসিয়াল চুক্তিটি সরকারের কাছে আছে কিনা। জাতীয় আর্কাইভে কিছু চুক্তির রেকর্ড রয়েছে, কিন্তু সেগুলোই আসল চুক্তি কিনা তা বলা যাচ্ছে না।

তিনি জানান, ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তি এবং ১৯৫০ সালের ভারত-নেপাল শান্তি ও মৈত্রী চুক্তির অনুলিপি সরকারের কাছে রয়েছে, তবে মূল কপিটি নিখোঁজ।
বর্তমান ভারত ও নেপালের বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে এই চুক্তির ৫ নম্বর ধারা। চুক্তি অনুযায়ী, নেপাল ‘কালী’ বা ‘মহাকালী’ নদীর পশ্চিমের ভূমির ওপর থেকে সমস্ত দাবি ত্যাগ করে, যা নদীটিকে নেপালের পশ্চিম সীমান্ত হিসেবে নির্ধারণ করে। কিন্তু দুই শতাব্দী ধরে প্রশ্ন রয়ে গেছে- কালী নদীর উৎপত্তি ঠিক কোথায়? নেপালের দাবি, নদীটির উৎপত্তি লিম্পিয়াধুরায়। সেই হিসেবে লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি এবং লিপুলেখ নদীর পূর্বে অবস্থিত হওয়ায় এগুলো নেপালের অংশ।

পক্ষান্তরে ভারতের অবস্থান হলো কালী নদীর উৎপত্তি লিপুলেখ অঞ্চলের নিচের একটি ঝরনা থেকে। ভারত তাদের প্রশাসনিক ও রাজস্ব রেকর্ড দেখিয়ে দাবি করে আসছে, কালাপানি ঐতিহাসিকভাবে অবিভক্ত উত্তর প্রদেশের (বর্তমানে উত্তরাখণ্ড) পিথোরাগড় জেলার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়ে এসেছে। তবে কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল চুক্তিতে কালী নদীর উৎস হিসেবে লিম্পিয়াধুরার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না এবং এর সাথে কোনও সীমান্ত মানচিত্র যুক্ত ছিল কিনা তাও জানা যায়নি।

ভারত ও নেপালের দীর্ঘদিনের এই বিরোধ ২০২০ সালে মারাত্মক রূপ নেয়। ওই বছর ভারত উত্তরাখণ্ডের সাথে লিপুলেখ যুক্ত করে কৈলাশ মানসরোবর যাত্রার জন্য ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়ক উদ্বোধন করে। নেপাল এর তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এই সীমান্ত বিরোধকে এক বড় জাতীয়তাবাদী ইস্যুতে পরিণত করেন। ওলির সরকার লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ এবং কালাপানিকে নেপালের অন্তর্ভুক্ত করে একটি নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করে এবং সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে পার্লামেন্টে তা পাস করিয়ে জাতীয় প্রতীকে যুক্ত করে।

সম্প্রতি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ পার্লামেন্টে মন্তব্য করেছিলেন যে ভারত যেমন নেপালের জমি দখল করেছে, তেমনি নেপালও বিভিন্ন স্থানে ভারতের জমি দখল করে রেখেছে। পরে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে যে এটি প্রযুক্তিগত সীমান্ত দখলের বিষয় ছিল এবং বিতর্কিত ভূখণ্ডের ওপর নেপালের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। তাছাড়া ভারত ও চীন লিপুলেখ গিরিপথ দিয়ে পুনরায় বাণিজ্য চালু করতে সম্মত হলে নেপাল আবারও আপত্তি জানায়।

তবে এখন সীমান্ত দাবির মূল ভিত্তি সুগৌলি চুক্তির আসল নথিই নিখোঁজ থাকায় ভারতের সঙ্গে আলোচনায় কাঠমান্ডুর আইনি ও ঐতিহাসিক দাবি কতটা জোরালো থাকবে, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠে গেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )