তবে আসামিরা অভিযোগ অস্বীকার করে মামলাটিকে রাজনৈতিক হয়রানি ও সম্মানহানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
মামলার বাদী ইসমাইল হোসেন দিনাজপুর জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক। এজাহারে আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—দিনাজপুর জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বোচাগঞ্জ উপজেলা এনসিপির মুখ্য সংগঠক এম. এ. তাফসীর হাসান, দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র ফয়সাল মোস্তাক, রাফিয়া ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, আনজু, বেলাল হোসেন, আসিফ, আরিফুল ইসলাম, রকি, কানন ও রাকিব।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ আগস্ট দুপুরে রাফিয়া ইসলাম বাদীর বাসার গেটে গিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন এবং একপর্যায়ে বাসার ভেতরে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বাদীর স্ত্রী তাকে বাধা দিলে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে যান।পরে একই দিন দুপুর সোয়া ২টার দিকে মামলার অন্য আসামিরাসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন বাদীর বাড়ির সামনে গিয়ে হৈ-হুল্লোড় ও চিৎকার-চেঁচামেচি করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় বাদীর স্ত্রী ও মাকে উদ্দেশ করে ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে রাফিয়া ইসলামের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে এবং তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে বলে দাবি করা হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য প্রথমে ৭ লাখ টাকা এবং পরে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার দাবি করা হয় বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর স্ত্রী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা তার ও তার মায়ের সঙ্গে মারমুখী আচরণ এবং ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।এজাহারে আরও বলা হয়েছে, বাদীর স্ত্রী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং রাফিয়া ইসলামকে সেখান থেকে চলে যেতে বলে।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে ১৫ আগস্ট বোচাগঞ্জ থানায় মামলা করেন ইসমাইল হোসেন।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বাদী এনসিপি নেতা ইসমাইল হোসেন বলেন, “এজাহারে যেটি উল্লেখ করেছি, সেটিই আমার মন্তব্য।”
অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার আসামি এম. এ. তাফসীর হাসান বলেন, এনসিপি থেকে তাকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করার পর থেকেই একটি পক্ষ তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।তিনি বলেন, “আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্যই ইসমাইল এই মামলা করেছেন।
তিনি আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। আমি আগামী দিনের উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। আমাকে বোচাগঞ্জে কীভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা যায়, মামলার মূল উদ্দেশ্য সেটিই। এটি রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও চরিত্রহননের চেষ্টা।”
মামলার আরেক আসামি ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মুখপাত্র ফয়সাল মোস্তাক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে বিভিন্ন নারীর ছবি নিয়ে আলোচনা দেখতে পাচ্ছিলেন। এ বিষয়ে তিনি কয়েকটি পোস্টের বিরোধিতাও করেছিলেন।
ফয়সাল বলেন, “৭ আগস্ট আটগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক রাশেদ ভাইয়ের ফোনের মাধ্যমে জানতে পারি, ইসমাইলের বাসায় একটি মেয়ে বিয়ের দাবিতে এসেছে। ইসমাইল কোথায় কোন নারীর সঙ্গে কী করবে, তার দায়ভারও আমার ওপর দেওয়া হয়েছে। অথচ এজাহারে বলা হয়েছে, আমি নাকি টাকা চেয়েছি। আমি টাকা চেয়েছি—এর প্রমাণ দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনা ৭ আগস্টের। মামলা হয়েছে ১৫ আগস্ট। আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যেই এ মামলা করা হয়েছে। সামনে পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করার ইচ্ছা রয়েছে। এ কারণে একটি মহল আমার পেছনে লেগেছে। আমার সম্মানহানির জন্য আমি ইসমাইলের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করব।”
এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শামসুল মুক্তাদির বলেন,এটা তদন্ত হওয়া দরকার।”
বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “ইসমাঈল হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক, এনসিপি, দিনাজপুর—চাঁদা দাবি সংক্রান্তে ফয়সাল মোস্তাক, তাফসীর, রাফিয়াসহ মোট ১১ জন এবং অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন। এর ভিত্তিতে বোচাগঞ্জ থানায় মামলা নং-০৪, তারিখ ১৫/০৮/২০২৬, মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান।