


‘রাস্তাটায় ভ্যানে উঠলে শরীরের হাড্ডিসহ নড়ে। এতটাই ভাঙাচোরা যে চলাচল করাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এত রাস্তার কাজ হয়, কিন্তু আমাদের রাস্তাটার কাজ আর হয় না। সরকার কি আমাদের কাছ থেকে টাকা নেয় না? রাস্তার কাজ না হওয়ায় ব্যবসায়ও অনেক লোকসান হচ্ছে।’ আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ফরিদাবাদ বড়বাড়ির ডাঙ্গা বাজারের এক মুদি ব্যবসায়ী রুবেল ইসলাম। শুধু তিনি নন, তাঁর মতো ওই এলাকার হাজারো মানুষ প্রতিদিন ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
তারাগঞ্জ ও/এ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, ‘রাস্তাটা ভাঙাচোরা হওয়ায় স্কুলে যাওয়ার জন্য অটো-ভ্যান পাওয়াও কষ্টকর। সময়মতো স্কুলে যেতে পারি না। এখন তো হেঁটে যাওয়াও কষ্টকর হয়ে গেছে।’ তারাগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ তারাগঞ্জ-বুড়িরহাট সড়কের চিত্র এখন এমনই। পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার অংশের কার্পেটিং উঠে গেছে। তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। কোথাও পিচ উঠে মাটি বেরিয়ে গেছে, কোথাও আবার বড় গর্তে জমে থাকছে পানি। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহন ও পথচারীদের।
বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তারাগঞ্জ-বুড়িরহাট সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচের চিহ্নও নেই। একটির পর একটি গর্ত এড়িয়ে অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলছে। কোথাও গর্ত এতটাই বড় যে যানবাহনের চাকা পড়ে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বেশি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি দিন দিন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। বুড়িরহাট, চড়কডাঙা, মাছুয়াপাড়া, মাঝাপাড়া, ভাটারপাড়, ফরিদাবাদ, বৈদ্যনাথপুর, বিষ্ণুপুর, মিড্ডারমাল্লি, তেলিপাড়া, অনন্তপুর, ফুলবাড়ি, বড়বাড়ি, মিস্ত্রিপাড়া, হাজীপাড়া, পলাশবাড়ী, খিয়ারচড়া, খানবাড়ির ডাঙ্গা ও ডাঙ্গাপাড়াসহ আশপাশের অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সড়ক এটি। কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্ব রয়েছে।
ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোতালেব হোসেন বলেন, ‘ভাই, এই সড়ক দিয়ে এখন পায়ে হেঁটে চলতেও কষ্ট হয়। ভ্যান বা অটোতে যাওয়ার সময় প্রচণ্ড ঝাঁকি দেয়। ভাঙা জায়গাগুলোতে ভ্যান-অটো পড়ে যাওয়ার অবস্থা হয়। রাস্তাটি ভাঙতে ভাঙতে চিকন হয়ে গেছে। প্রায়ই এই রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটে। রাস্তাটার দিকে কারও নজর নেই।’
খানবাড়ি এলাকার আকিব খান বলেন, ‘রাস্তাটি এখন আর রাস্তা বলে মনে হয় না, মনে হয় মরণফাঁদ। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ভাঙনের কারণে তারাগঞ্জ বাজারে যেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। দিনের বেলায় সতর্ক হয়ে গাড়ি চালানো গেলেও রাতে এই সড়কে চলাচল করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’
ইজিবাইকচালক গোবিন্দ রায় বলেন, ‘প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। রাস্তা ভাঙা থাকায় যাত্রীও ঠিকমতো পাওয়া যায় না। অনেক সময় ভাঙা রাস্তার কারণে দূরের যাত্রীরাও যেতে চান না। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির এমন অবস্থা হয়েছে। বর্ষায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। গর্তে পানি জমে থাকায় কোথায় কতটা গভীর গর্ত, তা বোঝা যায় না। ফলে ছোটখাটো দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হবে বলে তাঁদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী নাফিউর রহমান বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই সংস্কার কাজ শুরু হবে।