


দীর্ঘ দেড় যুগ মানবেতর জীবন যাপনের করে সকালের বাণী সহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর দিনাজপুর ঘোড়াঘাটের পরিত্যক্ত বিএস কোয়ার্টারে থাকা সেই স্বামী পরিত্যক্তা রাহেলা বেগম একটি পাকা সরকারি ঘর পেয়েছেন। মানবিক এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক সময়ের গৃহহীন স্বামী পরিত্যক্তা রাহেলা বেগম বেশ সুখেই দিনাতিপাত করছেন। জানা গেছে, বৃদ্ধা রাহেলার প্রথম স্বামী চান মিয়া এক ছেলে সন্তান রেখে মারা যায়। পরবর্তীতে রাহেলার উপজেলার সাতপাড়া গ্রামের শুকরান আলীর ছেলে শহিদুল ইসলামের সাথে বিয়ে হয়। এরপর দ্বিতীয় স্বামীর সংসারেও তার একটি পুত্র সন্তান জন্ম হয়। রাহেলা বিয়ের ৩/৪ বছর পর ১ম পক্ষের ছেলে আব্দুর রহিমের বিয়ে দেয়। এক বছর পর রহিমও একটি পুত্র সন্তান লাভ করে। রহিমের ছেলের বয়স যখন ২ বছর তখন সেও মারা যায়। এ সময় রাহেলার ২য় স্বামীর পক্ষের সন্তান বাবলু মিয়ার বয়স ৬ বছর। বিয়ের ৬ বছর সংসার করার পর স্ত্রী-সন্তানকে রেখে নিরুদ্ধেশ হয় রাহেলার ২য় স্বামী শহিদুল। এ সময় ঘরে এক পুত্র ও এক নাতির ভরণ পোষণের দায়িত্ব পড়ে যায়।
রাহেলা জীবন জীবিকার তাগিদে সাত পাড়া গ্রাম থেকে দ্বিতীয় পক্ষের সন্তান ও ১ম পক্ষের মৃত সন্তানের ছেলে আমিরুল ইসলামকে নিয়ে উপজেলার রাণীগঞ্জ বাজারে আসে। এসময় তার কোথাও থাকার স্থান না হওয়ায় রানীগঞ্জের দক্ষিণ দেবীপুর গ্রামে অবস্থিত সিংড়া ইউনিয়নের পরিত্যক্ত বিএস কোয়ার্টারে আশ্রয় নেয়। খসে পড়া ছাদের সিমেন্ট, বৃষ্টি হলেই ছাদ থেকে চুয়ে চুয়ে পরা পানি এর মধ্যেই দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ মানবেতর ও নিরাপত্তাহীন জীবন যাপন করে সকালের বাণী সহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ঘোড়াঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের দৃষ্টি গোচর হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরবর্তীতে উপজেলার ১নং বুলাকিপুর ইউনিয়নের হরিপাড়া বাজারের পশ্চিমে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে গৃহহীন রাহেলা বেগমকে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ঘর ও ঘরের চাবি নিজে হস্তান্তর করেন।
রাহেলা বেগমের সাথে কথা হলে জানান, ‘আমি এখন অনেক সুখে আছি। জীবন যাপনের নিরাপত্তা পেয়েছি। বাকি জীবনটা আপনাদেরকে দোয়া করেই যাবো।’ এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি পূর্ব থেকেই অবগত ছিলাম। পরবর্তীতে আপনাদের মাধ্যমে আরও বিশদ জানতে পেরে সরেজমিনে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি।