1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গুলিতে আহত শফিকুলের খোঁজ নিচ্ছে না কেউ | দৈনিক সকালের বাণী
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গুলিতে আহত শফিকুলের খোঁজ নিচ্ছে না কেউ

কুড়িগ্রাম অফিস
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৪
  • ২১৩ জন দেখেছেন
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ছোড়ড়া গুলি লেগে এক চোখ হারিয়েছেন শফিকুল ইসলাম। অন্য চোখের আলো নিভে যাবার উপক্রম।সংসারে একমাত্র উপার্জনকারী শফিকুল  ইসলামের এমন ঘটনায় পুরো পরিবার আছেন দুশ্চিন্তায়।

বাবা ওয়াহেদ আলীও চোখে দেখেন না।১৫ বছর আগে রাজ মিস্ত্রির  কাজ করতে গিয়ে তিনিও চোখ হারিয়েছেন।প্রতিবন্ধি ভাতা আর ছেলের উপার্জনে সংসার চললেও গত মাস ধরে নিদারুণ কষ্টে দিন কাটছে শফিকুল ও তার পরিবারটির।

এখন পর্যন্ত কেউ খোঁজ নেয় নাই শফিকুলের। চোখ হারানোর কষ্ট আর পরিবারের কথা চিন্তা করে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন শফিকুল ইসলাম।

স্থানীয়দের দাবী যেহেতু দেশের মানুষের মুক্তিতে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন দিন মজুর সফিকুল তাই এখন তার ও তার পরিবারের জন্য দেশের সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে।

শফিকুল ইসলাম কুড়িগ্রাম পৌর শহরের কৃষ্ণপুর পাইকপাড়া গ্রামের মোঃ ওয়াহেদ আলী ও সখিনা দম্পত্তির একমাত্র ছেলে।শফিকুলের তিন বোন।শফিকুলের স্ত্রী এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান আছে।

মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান,শফিকুল ইসলাম থাকতেন ঢাকার নয়াপল্টন এলাকায়।সফিকুল প্রায় ১৮বছর ধরে কখনও বেসকারী চাকুরী আবার কখনও রাজ মিস্ত্রী। নানান উপায়ে আয় করে সংসার চালাতেন।

১৯ জুলাই শুক্রবার জুমার নামাজের পর নয়াপল্টন এলাকায় ছাত্রদের একটি র‌্যালী বের হলে কৌতহল বশত: মিছিলে যোগদেন শফিকুল। পুলিশের ধাওয়ায় প্রথমে দৌড় দিলেও কিছুদুর গিয়ে পিছনে  ফিরে তাকাতেই আচমকা একটি বুলেট তার ডান চোখে লাগে।সেখানেই লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। পার্শ্ববর্তী কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরলেও সারা দেয়নি কেউই।

দেয়নি প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাটুকুও।ঘটনার দু-তিনদিন পর আগারগাঁও চক্ষু বিজ্ঞান ইনষ্টিটিউটে তার চোখের অস্ত্র্রপচার করা হয়। কিন্তু ততক্ষনে তার ডান চোখটির আলো চিরদিনের জন্য নিভে যায়।পরে চিকিৎসকরা জানান, অন্য চোখটিকে রক্ষা করতে হলে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।এমনকি বিদেশেও যেতে হতে পারে।অভাব অনটনের সংসারে স্বজনদের নিকট ধার দেনা করে কোন রকমে চলছে পরিবার।সেখানে চিকিৎসা খরচ পাবো কোথায়।

শফিকুল বলেন,আমার বাবা প্রায় ১৫-১৬ বছর আগে কাজ করার সময় সিমেন্টের বস্তা বহন করতে গিয়ে অসাবধানতা বশত: বস্তার মুখ খুলে দুচোখে লেগে যায়। পরে ঠিকমত চিকিৎসা করাতে না পেরে তিনিও অন্ধ হয়ে যান।এমন অবস্থায় মা আর আমার স্ত্রীর ঝিয়ের কাজই ভরসা।

শিক্ষার্থী মোঃ রিয়াজুল ইসলাম বলেন,বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিতে গিয়ে শফিকুল ইসলাম ভাই চোখ হারাতে বসেছেন।এ অবস্থায় সরকারের উচিত তার পাশে দাড়ানো।কেননা এটা আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা।আমি বলবো এ স্বাধীনতা।

শফিকুলের মা সখিনা বেগম বলেন, আমি কিছু চাই না,আমার ছেলের চোখ ভালো করে দেন।চোখ ভালো হলে আমার ছেলে কাজ করে সংসার চালাতে পারবে।আমরা গরীব মানুষ চিকিৎসার টাকা কই পাই?

স্থানীয় সাবেক কমিশনার মোঃ আনিছুর রহমান বলেন,খুবই অভাবের সংসার। সফিকুলের পিতার নামে একটি প্রতিবন্ধী ভাতা দেয়া ছাড়া আর তেমন সুযোগ নেই।শফিকুলের উপার্জন দিয়ে সংসার চলতো।এখন সেটাও বন্ধ হয়ে গেলো।সরকারি ভাবে যদি পরিবারটিকে সহযোগিতা করা হতো তাহলে হয়তো উন্নত চিকিৎসা করে শফিকুলের চোখ ভালো  হতো পরিবারটি উপকৃত হতো।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )