যুবদলের নেতা মশিউর রহমান পলাশ বলেন, ১৯৭১ সালে রৌমারী ছিল বৃহত্তর রংপুর জেলার কুড়িগ্রাম মহকুমার একটি থানা। স্বাধীনতা পরবর্তীতে এই থানার কিছু অংশ নিয়ে জন্ম হয় চর রাজিবপুর নামে আরও একটি থানা। এই রৌমারী মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়টা জুড়েই ছিল মুক্ত; কোনো পাকিস্তানি সৈন্যের পা পড়েনি এখানে। এই কৃতিত্বের দাবিদার এখানকার সাধারণ মানুষ, সাহসী মুক্তিযোদ্ধা ও যারা রৌমারী প্রতিরক্ষার দায়িত্বে ছিলেন।
যুবদলের ওই নেতা আরও বলেন, একাত্তরের জুনের শেষভাগে জেড ফোর্স গঠিত হলে রৌমারী তখন চলে যায় জেড ফোর্সের সরাসরি কমান্ডে, যার কার্যালয় ছিল মেঘালয়ের তেলঢালায় (তুরার তেল ঢালা)। তৎকালীন জেডফোর্স কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। মেজর জিয়ার তীক্ষè দূরদর্শিতায় রৌমারী প্রতিরক্ষার দায়িত্ব পান মেজর শাফায়াত জামিল ও লে. নুরন্নবী খান। তিনি তাদের দায়িত্ব দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত তত্ত্বাবধানেও রাখেন।
এভাবেই রৌমারী ও মেজর জিয়াউর রহমানের মধ্যে ওই সময়ে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ গড়ে ওঠে যার প্রতিফলন নিম্নরূপ; তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে রৌমারী ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের পুরো সময় মুক্ত। তিনি রৌমারীর মুক্ত বাতাস উপভোগ করতে নিয়মিত লঞ্চ নিয়ে রৌমারীর নদী ভ্রমণ করতেন। তিনি ছিলেন রৌমারী হতে প্রকাশিত অগ্রদূত পত্রিকার প্রধান পৃষ্ঠপোষক। যুদ্ধকালীন সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতীক স্বরূপ হাসপাতাল, কাস্টম্স, ডাক বিভাগ, বিচার ব্যবস্থা, বেসামরিক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তিনি।
দোয়া মাহফিল ও শীতবস্ত্র বিতরণ ও যুবদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় চরশৌলমারী ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক প্রভাষক নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব তারিফুল ইসলাম লালের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রৌমারী উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, বিশেষ অতিথি উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান পলাশ, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক নাজিম উদ্দীন আকন্দ, যুগ্ম আহবায়ক নূর মোহাম্মদ, সদস্য আয়নাল হক প্রমুখ।